May 15, 2026, 7:21 pm

সরকার শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়: প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, July 9, 2023
  • 153 জন দেখেছে

দৈনিক বিজয়বাংলা নিউজ ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আমরাই করেছি। আগে মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, আমরা আরও কয়েকটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউট করে দিয়েছি। কৃষি, ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, এভিয়েশন ও এরোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়- এসব বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় আমরা করে দিয়েছি। কারণ আমরাও চাঁদে যাব, আমরাও তো প্লেন বানাব। আমাদের সরকার শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।আজ রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০২৩-২৪ এর নির্বাচিত ফেলোদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসি তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি। বিজ্ঞানের প্রতি ছাত্ররা আগ্রহী ছিল না। এজন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিলাম। গবেষণার জন্য তখন কোনো বরাদ্দ ছিল না। আর্থিক সঙ্গতি না থাকা সত্ত্বেও তখন আমরা প্রথম ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি গবেষণার জন্য। প্রথমে কৃষিতে গবেষণায় গুরুত্ব দিই। পরবর্তী সময়ে প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের গণমুখী সব প্রকল্প খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে বন্ধ করে দেয়। কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি বাড়ি একটি খামার কোনোটাই আর চালু থাকেনি। কারণ এসব প্রকল্পের উপকারভোগীরা নৌকায় ভোট দেবে। কে কাকে ভোট দেবে সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। মানুষ তার সেবাটা পাবে না কেন।

২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে গবেষণা খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমার ছোটবোন শেখ রেহানা, আমরা পড়াশোনা শেষ করতে পারিনি। এজন্য দুঃখটা রয়ে গেছে। পরে অনেক ডিগ্রি পেয়েছি, কিন্তু সেটাতে কী আর মন ভরে! এজন্য আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের শিখিয়েছি, তোমাদের জন্য কিছু রেখে যেতে পারিনি, একটা জিনিস রেখে যাচ্ছি শিক্ষা। এটা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের গবেষণায় আরও বেশি এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, যাতে করে দেশীয় উদ্ভাবিত প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ সম্ভব হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সব প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানায় ‘গবেষণা ও উন্নয়ন’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচলিত প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনে দক্ষ জনশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অধ্যয়ন ও গবেষণা হতে হবে দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার আলোকে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২০১২ সালে আমি গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) প্রতিষ্ঠা করি। “সবার আগে নাগরিক” এ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে নতুন নতুন উদ্ভাবনের দায়িত্ব দেওয়া হয় জিআইইউকে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই ইউনিটটি সেবা সহজিকরণ ও গবেষণামূলক কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ২০১৮-১৯ অর্থবছর হতে পরিচালনা করে আসছে প্রধানমন্ত্রীর ফেলোশিপ কার্যক্রম। আমি জিআইইউ টিমকে ধন্যবাদ জানাই।

আমাদের সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বিগত সাড়ে ১৪ বছরে বাংলাদেশ বদলে গেছে। এ সময়ে মাথাপিছু আয় প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জিডিপি ৭.৭৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মানুষের গড় আয়ু ৫৫ বছর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৩ বছর। নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার ইত্যাদি নানা আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে অবস্থান করছে। এসব সম্ভব হয়েছে অব্যাহত গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং স্থিতিশীলতা বজায় থাকার কারণে। এ সময়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর