May 28, 2024, 4:11 am

যাদের কাছে জনগণের কোনো দায়বদ্ধতা নেই তারা যা খুশি তাই বলে: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, April 19, 2023
  • 192 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :: বিএনপি কখনো অগ্নিসন্ত্রাস করেনি মন্তব্য করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অগ্নিসন্ত্রাসের হোতা আওয়ামী লীগ। আজ বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

আগুনের ঘটনায় সরকার দায় দিচ্ছে বিএনপির ওপর, আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে—এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই অবৈধ সরকার, যাদের কাছে জনগণের কোনো দায়বদ্ধতা নেই, যে কারণে তারা যা খুশি তাই বলে। যা খুশি তাই করছে। আমরা বারবার বলছি, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা ক্ষমতায় টিকে আছে। জনগণও তাদের সঙ্গে নেই, তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই কারণে এসব কথা বলে বাজার গরম করে।’

‘একটি দায়িত্বশীল সরকার কখনোই এই ধরনের উক্তি করতে পারে না। যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলোর যদি সঠিক তদন্ত করতে হয়, নিরপেক্ষ ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তদন্ত করে এটা উদ্ধার করতে হবে। তার আগেই যদি সরকারপ্রধান বলে দেন, “এরা দায়ী”, তাহলে যারা তদন্ত করবেন, তাদের ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে যে তারা অন্য দিকে যাবে!’ বলেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন বলেছে, তারা মনে করছে শর্ট সার্কিটের কারণে এটা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের লোকজন ভোরে সেখানে গিয়েছিল ড্রিল মেশিন নিয়ে ফুটওভার ব্রিজ কেটে ফেলার জন্য। ড্রিল মেশিন কানেক্ট করার জন্য যখন তারা প্লাগ পয়েন্টে দিচ্ছিল সেই সময় শর্ট সার্কিট হয়েছে। তারপর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। যারা প্রত্যক্ষদর্শী তারা নিজেরা বলেছে।’

‘প্রশ্ন হচ্ছে এরা কারা, ডিএসসিসির লোক কি না? যদি হয়ে থাকেন, তারা কি জেনে-শুনে সেখানে গিয়েছিলেন যে, এখানে একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বা ঘটানো যেতে পারে? এই বিষয়গুলো কোনো তদন্ত সুষ্ঠুভাবে হচ্ছেই না! ফায়ার ব্রিগেডও বলছে, এগুলো শর্ট সার্কিট থেকে হচ্ছে। সেই কারণে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তারা কিছু বলার আগেই প্রধানমন্ত্রী বললেন এটা বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাস,’ বলেন তিনি।

অগ্নিসন্ত্রাসের হোতো আওয়ামী লীগ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো অগ্নিসন্ত্রাস করিনি। এই সন্ত্রাস জিনের মধ্যে। তাদের দুটি ব্যাপার; একটি সন্ত্রাস, আরেকটি দুর্নীতি। এখান থেকে তারা বের হতে পারে না। যখন ক্ষমতা পায় তখন সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, সব কিছু লুট করে নেওয়া—বর্গিদের সঙ্গে তুলনা করতে যেতে পারে। বর্গিরা যেমন আসে, লুট করে নিয়ে চলে যায়। তেমন ক্ষমতায় এসে লুট করে নিয়ে চলে যায়। এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগ।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিদেশিদের কাছে আমরা যাইনি। যতবার গেছি, তারা আমন্ত্রণ করেছে জন্য গিয়েছি। আমাদের থেকে ১০০ ভাগ বেশি তারা (আওয়ামী লীগ) গেছে, এখনো যাচ্ছে। সেদিনও ওবায়দুল কাদের সাহেবে (আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) তাদের টিম নিয়ে আমেরিকান অ্যাম্বেসেডরের কাছে গিয়েছেন। তাহলে সেটা কী? ধর্ণা কে দিচ্ছে? কোটি কোটি মিলিয়ন ডলার বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে…সবখানে গিয়ে তারা বলছে যে ভাই, এবারকার নির্বাচনটা আমাদেরকে করতে দাও, এভাবে করতে দাও, যাতে আমাদের প্রতিপক্ষ কেউ না থাকে। যাতে করে আমরা আগের মতোই ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন করতে পারি। তাই একথাগুলো (বিএনপি ধর্ণা দিচ্ছে) একেবারেই অবান্তর, এই কথাগুলোর কোনো মূল্য নেই।’

‘আমাদের একটাই কথা যে, জনগণ তাদেরকে আর দেখতে চাই না ক্ষমতায়। তাদের উচিত হবে…এখনো সময় আছে যে, তারা বিরোধী দলের যে দাবি এসেছে পদত্যাগ করার, সংসদ বিলুপ্ত করা এবং একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন করা এবং সরকার গঠন করা,’ বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার আসন্ন নির্বাচনের আগে বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য মহা পরিকল্পনা হতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বিএনপি শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটকে রাখা।’

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর