May 13, 2026, 9:29 am

টঙ্গীতে পাঠাও চালক হত্যা, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ২

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ::
  • আপডেট Monday, June 12, 2023
  • 143 জন দেখেছে

৬ জুন তুরাগ নদী থেকে পাঠাও চালক শরিফ হোসেন রিফাত (২০)-এর লাশ উদ্ধারের পর দায়েরকৃত হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নৌকার মাঝিকে ময়মনসিংহ ও গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ নিয়ে এই মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৩ জন হলো। আজ সোমবার র‌্যাব-১ এর  সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) মো. পারভেজ রানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

র‌্যাব জানায়, গত ৬ জুন বিকেলে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন রোদ্রপুর এলাকায় তুরাগ নদীতে একটি লাশ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।ভিকটিমের পিতা মো. ফারুক উক্ত লাশটির মুখ মন্ডল ও পরিধেয় বস্ত্র দেখে ভিকটিম মো. শরীফ হোসেন রিফাত (২০) এর লাশ সনাক্ত করে। এ বিষয়ে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে জিএমপি, গাছা থানায় একটি মামলা রুজু করেন। উক্ত নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। তাছাড়া উক্ত হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেপ্তারে ও সুষ্ঠু বিচারের দাবী করে গত ৭ জুন টঙ্গী এরশাদ নগর এলাকায় স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করে।এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা রহস্য উন্মোচনের জন্য র‌্যাব-১ এর আভিযানিক দল ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ জুন রাতে র‌্যাব-১, গাজীপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি তাইজুল ইসলাম ওরফে কাজল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করে। তার, পিতার নাম মো. আব্দুর রশিদ, থানা-টঙ্গী পূর্ব, জিএমপি গাজীপুর। এ সময় তার দখল হতে ১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।

ধৃত আসামি তাইজুল ইসলামের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী উক্ত মামলার ঘটনায় জড়িত অপর আসামি নৌকার মাঝি এমারত হোসেন (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পিতার নাম মো. মাইনুদ্দিন, থানা-গাছা, জিএমপি, গাজীপুর। তাকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন পলাশোনা খেয়াঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামিরা তাইজুল ইসলাম ওরফে কাজল ও এমারত হোসেন ভিকটিম রিফাতকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এই চাঞ্চল্যকর হত্যার লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয়।

আসামিদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, ধৃত আসামি তাইজুল ইসলাম ওরফে কাজল ভিকটিম রিফাতের পূর্ব পরিচিত এবং তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।আনুমানিক একমাস পূর্ব হতে তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক দেনা পাওনা নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় এবং আসামির ভাষ্যমতে ভিকটিম রিফাত আসামির পাওনা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে আসামি কাজলের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং ভিকটিম রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৫ জুন বিকেল ৫টার সময় আসামি কাজল তার অপর সহযোগী সোহাগ এর সহায়তায় ভিকটিম রিফাতকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে তার বাসা হতে ডেকে এনে তুরাগ নদী পার হয়ে তারা সাতাশকান্দি চরে যায় । এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করে।

পরবর্তীতে আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে  তারা নদীর অপর পাশ থেকে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে রওনা করে। আগের লেনদেনের বিষয় নিয়ে পুনরায় তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক  হয়। একপর্যায়ে আসামি কাজল ও সোহাগ দুই জনেই ভিকটিমকে কিল-ঘুষি মেরে নদীর পাড়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং আসামি কাজল জালের রশি দিয়ে ভিকটিমের হাত বেঁধে ফেলে। তখন ভিকটিম আঘাতের ফলে গোঙ্গরাতে থাকে। খেয়া ঘাটের অপর পাড়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়োজিত মাঝি এমারত হোসেনকে ডাক দিয়ে এপারে নিয়ে আসে।

আসামি কাজল ও সোহাগ ভিকটিম রিফাতকে টেনে হিঁচড়ে ধরাধরি করে নৌকায় উঠায়। নৌকা মাঝ নদীতে আসলে আসামি কাজল ও সোহাগ ভিকটিম রিফাতের গায়ের টি-শার্ট ও গেঞ্জি খুলে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং গুম করার উদ্দেশে তাকে মাঝ নদীতে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিম পানিতে ডুবে মারা গেলে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা সেখান থেকে দ্রুত ঘাটে চলে আসে। স্থানীয় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার ভয়ে ভিকটিমের রেখে যাওয়া মোটরসাইকেল রেখে পায়ে হেঁটে কিছুদূর এসে ইজি বাইকে করে আসামিরা যার যার বাড়িতে চলে যায়। ভিকটিমের পরিবারের লোকজন ভিকটিমকে খোঁজাখুঁজি করলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় লোকজনের কানাঘুষা শুনে তারা বাড়ি থেকে আত্মগোপনে চলে যায়।

গত ৫ জুন টঙ্গীর এরশাদ নগরের বাসা থেকে পাঠাও চালক শরিফ হোসেন রিফাতকে দুই জন ডেকে নিয়ে যায়। ৬ জুন বিকালে তুরাগ নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় গাছা থানায় হত্যা মামলা হয়। ৬ জুন এরশাদ নগরে বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে। এরপর টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ এক আসামি সোহাগকে গ্রেপ্তার করে। এখন র‌্যাব এই মামলায় আরো দুই জনকে গ্রেপ্তার করল।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর