স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মাহফুজুর রহমান নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১২টার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভার থেকে সেনা কল্যাণ ভবনগামী সংযোগ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তিনি টঙ্গী পূর্ব থানাধীন ব্লু ফ্যাশনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভার থেকে সেনা কল্যাণ সংযোগ রাস্তার মাঝামাঝি জনপদ অফিসের সামনে পৌঁছা মাত্র অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা মাহফুজুর রহমানের উপর আকস্মিকভাবে হামলা করে। এ সময় দুষ্কৃতকারীরা তার ডান পায়ের উরুর পেছনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে টঙ্গীর বিআরটি ফ্লাইওভারে প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শুধু রাতের বেলায় নয়, দিনে দুপুরেও ফ্লাইওভারটিতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ফ্লাইওভারের অধিকাংশ স্থানে নেই সড়কবাতি, সিসিটিভি ক্যামেরা কিংবা পুলিশ বক্স। এরফলে পথচারী কিংবা বাস যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। ইতোপূর্বে ফ্লাইওভারটিতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে একাধিক ব্যক্তি নিহত ও আহতের ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, টঙ্গী ফ্লাইওভার ও আশপাশের এলাকায় ছিনতাই এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী পথচারী কিংবা শিক্ষার্থীরা কেউই নিরাপদ নন। রাত বাড়লেই বেড়ে যায় আতঙ্ক, কমে যায় নিরাপত্তা। ফ্লাইওভার ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল বাড়ানো, প্রতিটি ব্রিজ, আন্ডারপাস এবং অন্ধকার জায়গায় পর্যাপ্ত লাইটিং ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন, রাতে রাস্তায় দায়িত্বরত পাহারাদার ও পুলিশ সদস্যদের আরও সক্রিয় ও তৎপরভাবে দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা, ছিনতাই ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, পুলিশ যানবাহন থামিয়ে চেকিংয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে রাস্তায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।