স্টাফ রিপোর্টার :: টঙ্গীতে ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসাতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে মানববন্ধন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে বজলুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৪ জুলাই) সকালে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক দখল করে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে ৫১ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম খান মিরাজের বিরুদ্ধে এই মানববন্ধন করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের এই মানববন্ধনের কারণে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ছাত্রদ নেতাকে ফাঁসাতে পরিকল্পনা মাফিক ছাত্রলীগ নিয়ে মানববন্ধন করাই সামাজিক যোগোযোগমাধ্যমে মানববন্ধনের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ছাত্রদলের একাধিক নেতারা বলেন, স্থানীয় চোরাই তেল ব্যবসায়ী বজলুর রহমান নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত বিএনপি নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এ কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। এতে অংশ নেন ছাত্রলীগের ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক যোবায়ের, গণনা ও প্রকাশনা সম্পাদক সিয়াম, এবং নেতাকর্মী দ্বীন আমিন ও রিয়াদসহ অনেকে।
জানা যায়, গত ৩০ জন বজলুর রহমানের বাসার নির্মাণকাজ সংক্রান্ত বিষয়ে ছাত্রদল নেতা মিরাজুল ইসলাম মিরাজের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। মিরাজের দাবি, তাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডেকে এনে ছাত্রলীগ নেতাদের দিয়ে অপমান ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়। পরে একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে বজলুর রহমান টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ মিরাজের পিতাকে গ্রেফতার করে।
এ বিষয়ে ৫১ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম খান মিরাজ বলেন, বজলুর রহমানের সঙ্গে আমাদের পূর্বে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের দ্বন্দ্বকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে আমাকে রাজনৈতিক ভাই কোণঠাসা করার অপচেষ্টা চলছে। অথচ আমি ডামি নির্বাচনের সময় ৬৪ দিন জেল খেটেছি, পরিবারও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আজ কিছু দুষ্কৃতকারী ও নিষ্ক্রিয় বিএনপি নেতারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। ছাত্রলীগ নিয়ে মানববন্ধন করার বিষয় জানতে বজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান বলেন, বজলুর রহমানের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। মানববন্ধন কেন এবং কারা করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ অংশ নিয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।