স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গমের ব্লাস্ট রোগের টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ সোমবার দিনব্যাপী হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “ব্যাসিলাস ভিত্তিক বালাইনাশক প্রস্তুতি ও ব্যবহার” এই প্রতিপাদ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এই আয়োজন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল সেমিনার কক্ষে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
কর্মশালায় গমের ব্লাস্টের মতো ধ্বংসাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ মোকাবিলায় রাসায়নিকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বালাইনাশক উৎপাদন ও ফর্মুলেশনের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা। অংশগ্রহণকারীরা ব্যাসিলাস নামক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে জৈব বালাইনাশক তৈরি ও মাঠ পর্যায়ে তার প্রয়োগ সম্পর্কে হাতে—কলমে প্রশিক্ষণ লাভ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন করেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. জহুরুল করিম, প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও সাবেক পরিচালক প্রফেসর ড. তোফাজ্জল ইসলাম, প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, প্রফেসর ড. মোঃ মোর্শেদুর রহমান, প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান, প্রফেসর ড. শাহ্ মোহাম্মদ নাঈমুল ইসলামসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, আইবিজিই এর শিক্ষার্থী, বিএআরআই ও ব্রি থেকে আগত আমন্ত্রিত বিজ্ঞানী ও বিভিন্ন ইনডাস্ট্রির প্রতিনিধিবৃন্দ।
উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গমের ব্লাস্ট একটি ভয়াবহ রোগ যা প্রতিবছর ফসলের বিপুল ক্ষতি করে। রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে ব্যাসিলাস ভিত্তিক জৈব প্রযুক্তি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষক পর্যায়ে জৈব বালাইনাশক তৈরির দক্ষতা পৌঁছে দিতে পারলে গম চাষে একটি টেকসই পরিবর্তন আসবে। আমাদের লক্ষ্য কৃষকের জন্য বাস্তবসম্মত ও উপযোগী সমাধান নিশ্চিত করা।
এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. তোফাজ্জল হোসাইন রনি কীটনাশক প্রস্তুতির প্রক্রিয়া ও প্রয়োগ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা গমের ব্লাস্ট দমনে ব্যাসিলাসের ব্যবহার, সংরক্ষণ ও প্রয়োগের কৌশল হাতে— কলমে শিখে সরাসরি মাঠে প্রয়োগযোগ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।