স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে আমিরুল ইসলাম ওরফে রাশেদ উদ্দীন (৩৪) নামের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি। শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সে নোয়াখালীর হাতিয়া মধ্যমচেঙ্গা এলাকার নুরুল ইসলাম চৌকিদারের ছেলে। তার কয়েদি নম্বর ২৫৯৭/এ। এ ঘটনায় চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেল সুপার। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাতিয়া থানায় দায়েরকৃত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের এক মামলায় প্রথমে নোয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দি ছিল আমিরুল ইসলাম। পরে ২০১৪ সালে নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালত তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। ২০১৫ সালের ২১ আগস্ট তাকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে সেখানেই ছিল সে। শনিবার ভোর রাতে বাথরুমে ঢুকে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে চাদর প্যাঁচিয়ে তাতে ফাঁস নেয় আমিরুল ইসলাম। এ সময় কারা কর্তৃপক্ষ তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কারা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আমিরুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, আমিরুল ইসলাম নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছিল। গায়ের চাদর ছিঁড়ে বাথরুমের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে বেঁধে গলায় ফাঁস নেয় সে। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আইনি প্রক্রিয়ার শেষে মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানান, ‘ওই কয়েদিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব হবে।