নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ :: ময়মনসিংহের নান্দাইলের হতদরিদ্র কৃষকের মেয়ে মাদরাসাছাত্রী আমেনা খাতুনকে সরকারি ট্যাব না দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে অধ্যক্ষ ট্যাব দিয়েছিলেন নিজের আত্মীয় ১৪ রোলধারীকে। এ ঘটনাটি প্রকাশ হলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার কালের কণ্ঠের অনলাইনে ‘রোল ৪-কে নয় অধ্যক্ষ ট্যাব দিলেন ১৪ রোলধারী নিজের শ্যালকের মেয়েকে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে ঘটনাটি তদন্তের পর সত্যতা পেয়ে উপজেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) সকালে ট্যাবটি উদ্ধার করে বঞ্চিত ওই মেধাবী ছাত্রীর হাতে তুলে দেয়।
জানা যায়, সরকারি এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১ প্রকল্পে ব্যবহৃত ট্যাবগুলো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবীদের দেওয়ার নির্দেশনা আসে। এ অবস্থায় উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয় ও মাদরাসার নবম শ্রেণিতে ১ থেকে ৪ ও দশম শ্রেণিতে ১ থেকে ৫ রোল নম্বরধারী শিক্ষার্থীদের তালিকা চাওয়া হয়। এরপর গত ১০ জুলাই ট্যাব বিতরণ করা হলেও নিজের প্রাপ্য ট্যাব পায়নি আমেনা খাতুন। সে উপজেলার কাদিরাবাদ আলিম মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী, রোল ৪।তাকে না দিয়ে ওই ট্যাব মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ দিয়েছিলেন নিজের শ্যালকের মেয়েকে। মেয়েটি একই শ্রেণিতে পড়ে। তবে তার রোল ১৪। পরে ঘটনাটি নিয়ে বঞ্চিত ছাত্রী ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করে ট্যাবটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন।এ অবস্থায় গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল মনসুর নিজের হাতে আমেনার হাতে ট্যাব তুলে দেন। এ সময় ট্যাব পেয়ে আমেনা খাতুন বলেন, ‘আমার মনডাই খারাপ হয়ে গেছিন। পরে পত্রিকায় প্রকাশ হলে আমার ট্যাব আমি পাই। এতে আমি খুশি।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল মনসুর বলেন, এ রকম নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড একজন শিক্ষকের করা ঠিক হয়নি।ওনাকে (অধ্যক্ষ) সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।