আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: আগামীকাল ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও টানটান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কাজের ওপর এটি একটি বড় ‘গণভোট’ বা মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ (প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট) থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি (জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি), কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ইরানের সাথে চলমান অঘোষিত যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার রেটিং বেশ নিচের দিকে। সে তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। জনমত জরিপ ও প্রেডিকশন মার্কেটগুলোতে (যেমন পলিমার্কেট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণ) বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা এটিকে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে একটি ‘ব্লু ওয়েভ’ বা নীল জোয়ারের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। তবে রিপাবলিকানদের বড় শক্তির জায়গা হলো তাদের বিশাল নির্বাচনী তহবিল। ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানদের হাতে কয়েক কোটি ডলার বেশি প্রচারণার অর্থ রয়েছে, যা দিয়ে তারা শেষ মুহূর্তে ভোটারদের টানার জন্য বিপুল পরিমাণ বিজ্ঞাপন দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি পরাজয়ের আশঙ্কা করছেন?
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি এই নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের (বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর) বাস্তব আশঙ্কা করছেন। ট্রাম্প নিজেই তাঁর দলের আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে ডেমোক্র্যাটরা তাঁকে আবার “অভিসংশন” (Impeach) করার কোনো না কোনো উছিলা খুঁজে বের করবে। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “ধরে নিন এই ব্যালটে আমি নিজেই আছি”—যা থেকে স্পষ্ট যে তিনি পরিস্থিতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। পাশাপাশি, ট্রাম্প বেশ কিছুদিন ধরে কোনো প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ভোট জালিয়াতি নিয়ে পুনরায় সন্দেহ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা করছেন, পরাজিত হলে ট্রাম্প প্রশাসন আইনি চ্যালেঞ্জ বা নির্বাচনী ফলাফলের ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতে পারে।