স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী:: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে একটি ওয়াশিং কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ সে অক্টবার )বিকেলে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন হিমারদিঘী এলাকায় জেলা প্রশাসন ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানার অন্তর্গত হিমারদিঘী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি ওয়াশিং কারখানায় কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা সংযোগ ছাড়াই গোপনে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছিল। এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় যৌথ টিম। ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ সংযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার পর ডেনিমার্ক ফ্যাশন ওয়াশিং কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের দায়ে কারখানা কর্তৃপক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নেতৃত্ব দেন গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার সৈয়দা তামান্না হোরায়রা। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তিতাস গ্যাসের টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মেজবা-উর-রহমানসহ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রশাসনের এমন আকস্মিক পদক্ষেপে স্থানীয় অন্যান্য অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযানের বিষয়ে তিতাস গ্যাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, এই ধরনের অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে সরকার একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সামগ্রিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। সাধারণ গ্রাহক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ ব্যবহার রোধ করতে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। গ্যাস চোর ও অবৈধ সংযোগধারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে বলেও জানান তারা।
টঙ্গীতে পরিচালিত এই সফল যৌথ অভিযান অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। সরকারের রাজস্ব সুরক্ষা এবং গ্যাসের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে তিতাস গ্যাস ও জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ জনস্বার্থে অত্যন্ত সময়োপযোগী। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত মনিটরিং এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে গ্যাস চুরির সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করা জরুরি।