বিনোদন প্রতিবেদক:: অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ নয়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন বাদী।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রনি জানান, মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন। এর আগে আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দিয়েছিলেন।
পিবিআই ২০২৬ সালের ২৫ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছিল। তবে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বাদী। পরে তিনি ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত মামলাটি সিআইডিকে দিয়ে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
যে শাড়ি নিয়ে মামলার সূত্রপাত:
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তাঁর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন তানজিন তিশা।
অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সানায়া। শাড়িটি ফেরত চেয়ে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে তানজিন তিশাকে বার্তা পাঠান তিনি। এ নিয়ে অভিনেত্রী তাঁকে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ দুটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তানজিন তিশার সঙ্গে দেখা হলে সানায়া আবারও শাড়িটি ফেরত চান। তবে তখনো শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর মেসেঞ্জারে ফোন করে তানজিন তিশা তাঁকে মামলা করা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সানায়া। এ ঘটনায় ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। মামলাটির আগের তদন্তে পিবিআই অভিযোগের সত্যতা পায়নি বলে জানিয়েছিল। তবে বাদীর নারাজি আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় এখন সিআইডি অভিযোগগুলো অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে।