October 10, 2026, 8:08 pm

টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের মালামাল চুরি: সন্দেহভাজন আটক

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, October 10, 2026
  • 28 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী:: গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল টঙ্গীর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে আসা অসহায় রোগী ও তাদের সাথে থাকা স্বজনদের ব্যবহৃত স্মার্টফোন, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী চুরির অভিযোগ সামনে এসেছে। চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের এমন চরম ভোগান্তির প্রেক্ষাপটে স্থানীয়দের সহায়তায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে যথাযথ পুলিশি হেফাজতে হস্তান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। একটি সেবামূলক সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যদি এমন অনাকাঙ্ক্ষিত চুরির শিকার হন, তবে তা হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করে।
অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা, ঠিক কতজন রোগী ও স্বজন এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন, ভুক্তভোগীদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় কিংবা আটক ব্যক্তির কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের অপহৃত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না—এসব স্পর্শকাতর বিষয় এখনো প্রশাসনিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনদের দেওয়া তথ্য থেকে ঘটনার এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।
ভুক্তভোগীদের বিবরণ অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক অসুস্থ রোগীর কাছে গিয়ে ওই ব্যক্তি নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী বা সহায়তাকারী হিসেবে জাহির করেন এবং দ্রুত ওয়ার্ডে সিটের সুব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সিট পাইয়ে দেওয়ার নামে তিনি রোগীর কাছ থেকে কিছু নগদ অর্থও হাতিয়ে নেন এবং পরবর্তীতে একটি সিটও নির্ধারণ করে দেন। এরপর তিনি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে সময় কাটানোর অজুহাতে কিংবা গেম খেলার কথা বলে রোগীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি চেয়ে নেন। সরল বিশ্বাসে ফোনটি দেওয়ার পর সুযোগ বুঝে তিনি ওই হ্যান্ডসেটটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চম্পট দেন।
পরবর্তী সময়ে রোগীর অন্যান্য নিকটাত্মীয়রা হাসপাতালে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তি উল্টো অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে তাদের সামনে উপস্থিত হয়ে সহানুভূতি দেখানোর ভান করেন। তিনি স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে বলতে থাকেন যে, যা ঘটার তা তো ঘটেই গেছে, এখন আর কিছু করার নেই। এমন বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে রোগীর স্বজনরা মানসিক হতাশা নিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু হাসপাতাল সংলগ্ন পথ ধরে রাস্তা পার হওয়ার সময় রোগীর এক স্বজন আকস্মিকভাবে ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চিনে ফেলেন। কোনো সময় নষ্ট না করে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, তিনি হাতিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনটি টঙ্গীর স্থানীয় সৈনিক ক্লাব মার্কেটের একটি দোকানে দিয়ে এসেছেন। তবে ওই নির্দিষ্ট দোকানটির মালিকের পরিচয়, মোবাইলটি সেখানে বিক্রি করা হয়েছে নাকি অন্য কোনো গোপন শর্তে রাখা হয়েছে এবং ডিভাইসটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা স্বতন্ত্রভাবে এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
অসুস্থ শরীরে সেবা নিতে এসে সর্বস্ব খোয়ানোর এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে অবাধে বহিরাগত ও অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা এবং সিট পাইয়ে দেওয়ার নামে এমন আর্থিক প্রতারণা ও চুরির ঘটনা পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য চরম উদ্বেগজনক।
সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ নাগরিক ও তাদের স্বজনদের জীবন ও মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল প্রশাসনের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে এমন ঘটনা উদ্‌ঘাটন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং চোরাই মালামাল বিক্রির সাথে জড়িত চক্র ও দোকানদারকে আইনের আওতায় আনা এখন অত্যন্ত জরুরি। হাসপাতালজুড়ে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিয়মিত নিরাপত্তা প্রহরীর টহল জোরদার এবং দালাল চক্রের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের যৌথ ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর