স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের বিশাল বনাঞ্চল ও পরিবেশ সুরক্ষায় ঢাকা বন বিভাগের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অবিলম্বে গাজীপুরে পৃথক ‘গাজীপুর বন বিভাগ’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন ও জনস্বার্থ উন্নয়ন ট্রাস্ট। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন (গাপা) ও জনস্বার্থ উন্নয়ন ট্রাস্ট এর আয়োজনে নগরীর শায়লা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এসব দাবি জানানো হয়।
আয়োজকরা উল্লেখ করেন, ঢাকা বন বিভাগের পুরো কর্মপরিধি ও বনাঞ্চল গাজীপুর জেলায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এর বিভাগীয় অফিস ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত। ফলে স্থানীয় সেবাগ্রহীতা ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি ও অর্থদণ্ড পোহাতে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি মো. মোছাদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ও জনস্বার্থ উন্নয়ন ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি মো. মেহেদী হাসান, প্রধান উপদেষ্টা ফেডরিক মুকুল বিশ্বাস, নির্বাহী সহ-সভাপতি এনামুল হক, সহ-সভাপতি মো. ইসমাইল মোল্যা এবং দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রুবেলসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আয়োজকরা গাজীপুরের বনাঞ্চল রক্ষা এবং সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে ৫ দফা দাবি পেশ করেন।
তারা আরো জানান, ঢাকা বন বিভাগ ও বনাঞ্চল প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের প্রায় পুরো জুরিসডিকশন ও বনাঞ্চল গাজীপুর জেলার অন্তর্গত। অথচ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও)-সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যালয় ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত। শ্রীপুর, কাপাসিয়া কিংবা ফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক ও সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ঢাকায় গিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে। ফলে তারা ঢাকা শহরের দীর্ঘ যানজট ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
আয়োজকরা জোর দিয়ে বলা হয়, গাজীপুরের বনাঞ্চলকে কেন্দ্র করে পৃথক ‘গাজীপুর বন বিভাগ’ অনুমোদন ও প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের চরম দাবি। গাজীপুরে পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় জনগণ সহজেই প্রশাসনিক সেবা পাবেন, বনভূমি দখল প্রতিরোধ ও উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত হবে এবং মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও বন অপরাধ দমন ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে।
জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় সংবাদ সম্মেলনে পেশকৃত ৫টি প্রধান দাবি হলো:
১. সেবা সহজীকরণ ও বন সুরক্ষায় গাজীপুর বন বিভাগ অনুমোদন করে এর প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত গাজীপুর কেন্দ্রিক পরিচালনা করা। ২. বন আইন সংশোধন ও যুগোপযোগী করে বন ক্যাডার কর্মকর্তাদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া, যাতে বিলম্ব ছাড়াই তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। ৩. বনভূমি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো অজুহাত ছাড়াই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা এবং দখল রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। ৪. নিরপরাধ ব্যক্তিদের যেন বন মামলায় হয়রানি করা না হয় তা নিশ্চিত করা, মিথ্যা মামলা তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যাহার করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা। ৫. বন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
আয়োজকরা আরও উল্লেখ করা হয়, বন রক্ষা শুধু বন বিভাগের একক কাজ নয়; এটি রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জনগণের যৌথ দায়িত্ব। গাজীপুরের বনাঞ্চলকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত রাখতে বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যম ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের জোর দাবি জানানো হয়।