September 23, 2026, 11:57 pm

সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর আবদুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, September 23, 2026
  • 3 জন দেখেছে

মুহম্মদ আবুল বাশার:: পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের ইছলাহির জন্য এমন একজন ব্যক্তিত্বকে প্রেরন করবেন, যিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সংস্কার করবেন। অর্থাৎ তিনি বিদয়াত বেশরা এবং পবিত্র ইসলামী শরীয়তে বহির্ভূত কাজগুলোর সংশোধন করবেন ।
সেই রকম একজন খাছ ওলীআল্লাহ হলেন , সাইয়্যিদুল আউলিয়া, গাইছুল আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন,৪৭১ হিজরী সনের পবিত্র১লা রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার শরীফ।উনার সম্মানিত পিতার নাম মুবারক হচ্ছেন, সাইয়্যিদ আবু ছালেহ মুসা জঙ্গীদোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি ।
যেহেতু তিনি জিহাদ প্রিয় ছিলেন সেই জন্য উনাকে জঙ্গীদোস্ত বলা হয়। আর উনার যিনি সম্মানিতা মাতা তিনি হচ্ছেন, হযরত উম্মুল খায়ের আমাতুল জাব্বার হযরত ফাতিমাহ আলাইহাস সালাম।তিনি ছিলেন পিতার দিক থেকে,ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার এবং মাতার দিক থেকে ইমামুছ ছালিছ মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের বংশধর।সুবহানাল্লাহ।
১৪৮ হিজরী শরীফে ১১ ই রজব শরীফ যিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্মানিত ইমাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জাফর ছাদিক আলাইহিস সালাম উনাকে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।আমার থেকে ৫০০ বছর পর সাইয়্যিদুল আউলিয়া গাউছুল আ’যম হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করবেন। এবং তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং ইমামুছ ছালিছ মিন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন -আপনাদের শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের পর আমি আমার উম্মতের কথা ভাবি।তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত বড় পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দ্বারা আমাকে সুসংবাদ হাদিয়া করলেন।তাহলে তিনি এই উম্মতের জন্য কতো বড় নিয়ামত । সুবহানাল্লাহ।তিনি উনার মাতা উনার রেহেম শরীফে থাকা অবস্থায় ১৮ পারার হাফেজ হয়ে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।তিনি শৈশব কালেই ইলিম অর্জনের জন্য বাগদাদ শরীফের সর্বশ্রেষ্ঠ মাদরাসা নিযামিয়াতে ভর্তি হন। এবং তিনি সেখানে তাফসীর, হাদীছ , ফিক্বাহ , দর্শন , সাহিত্য , ইতিহাস , তর্কবিদ্যা , ইলমে কালাম ইলমে উরুজ , ইত্যাদি প্রত্যেকটি বিষয়ে খোদা প্রদত্ত মেধাশক্তি বলে, মাত্র ৯ বছরের মধ্যেই সমস্ত কিছুই হাছিল করেন ,এবং তিনি খাছভাবে আবূ সাঈদ মাখদূমী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাত মুবারকে বাইয়াত গ্রহণ করে ,ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে , তাছাউফ ও কামালিয়াতের উচ্চ স্তরে পৌছেন।উনার মুবারক পরশেই রুগ্ন ও নিভুনিভু পবিত্র দ্বীন ইসলাম সুস্থ, সবল ও জিন্দা হয়ে যায়।
এ জন্য উনাকে বলা হয়, মুহিউদ্দীন অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম জিন্দাকারী । উনার তাজদীদের নুরানী পরশ দ্বারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম নবজাগরন ঘটেছিল এই জন্য উনাকে মুহিউদ্দীন বলা হত। হযরত নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে একজন মানুষের পক্ষে যত মাক্বাম অর্জন করা সম্ভব মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল আউলিয়া গাউছুল আ’যম হযরত বড় পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সমস্ত কিছুই হাদিয়া মুবারক করেন।সুবহানাল্লাহ ।
হিজরী ছয় শতকে সারা মুসলিম জাহানে ইহুদী নাছারাদের সূক্ষ চক্রান্ত ও খলীফা নামধারী যালিম শাসকদের যুলুম অত্যাচার অন্যায় অবিচার আর দ্বীনি আমল আখলাখে জনসাধারন বিমুখ ছিল।বিশেষ করে বাগদাদে আব্বাসীয় খলীফাদের পূর্ণ পতিপত্তি থাকা সত্বেও পার্থিব সুখ সম্পদ কৃষ্টি সভ্যতার উন্নতী চরম শিখরে পৌছলেও আমল আখলাকে সুন্নতের চেতনা অন্তরে পরিশুদ্ধতায় খলীফা থেকে শুরু করে সকলেই ছিল বড়ই গাফিল।পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নামে দুনিয়াদার ধর্মব্যবসায়ী এবং ছূফী দরবেশ নামধারীরা প্রাথমিক অবস্থায় নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি টিকিয়ে রাখার জন্য বিরোধিতায় লিপ্ত হলেও গাউছুল আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বেলায়েত কামালতের রোব ও কারামতের দাপটে ধর্মব্যবসায়ীদের গোমর ফাস হয়ে নিস্তানাবুদ হয়ে যায়।
উনার তাজদীদ ও হিদায়েতের বয়ানে শুরুর দিকে ১০ থেকে ১২ জন হলেও এক পর্যায়ে প্রায় ৭০ হাজারের ও অধিক শ্রোতা উপস্থিত হয়। সুবহানাল্লাহ।তিনি প্রায় সারা বৎসরই রোযা রাখতেন। সাধারনত তিনি রুটি খেতেন অনেক সময় তিনি মূল্যবান পোশাক পরতেন। আবার অনেক সময় তিনি অল্প মূল্যের কাপড় ও পরিধান করতেন।উনার উঠা বসা চলা ফিরা কথা বার্তা ঘর সংসার সবই ছিল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরন অনুকরনে। তিনি নিক্ষিপ্ত তীরকে লক্ষস্থলে পৌছার পূর্বেই আবার ফিরিয়ে আনতে পারতেন।এবং উনার জীবনে অনেক আশ্চর্য ঘটনা অর্থাৎ কারামত দেখা যায়।  উনার দোয়ার বরকতে অনেক নেক সন্তান জন্মগ্রহণ করেছেন। যারা পরবর্তীতে অনেক উচু পর্যায়ের ওলীআল্লাহ হয়েছেন।
সুবহানাল্লাহ।আবার ফুরফুরা শরীফের পীর ছাহেব হযরত আবু বকর ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে কিছু লোক জানতে চাইলো সাইয়্যিদুল আউলিয়া গাউছুল আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত বড় পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দীর্ঘ ১২ বছর পর ডুবে যাওয়া একটি বরযাত্রী দলকে জিন্দা করেছেন।এই বিষয়ে আপনি কি বলেন ?তিনি বললেন অবশ্যয় আমি বিশ্বাস করি। অনেক শান মান ফযিলত মুবারক উনার।
তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারকে ৪ টি নিসবাতুল আযীম শরীফ করেছিলেন। উনার মোট ৪৯ জন সন্তান সন্তুুতি ছিলেন , উনাদের মধ্যে ২৭ জন ছিলেন, ছেলে সন্তান। আর ২২ জন ছিলেন মেয়ে সন্তান। সুবহানাল্লাহ। উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস সম্পর্কে বলা হয় ,৫৬১ হিজরী শরীফের রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস থেকে তিনি কঠিনভাবে মারিদী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
এরপর রবিবার দিবাগত রাতে অর্থাৎ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফে তিনি গোসল করেন। এরপর ইশার নামায আদায় করে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের গুনাহখতা মাফের জন্য দোয়া করেন।  এরপর গায়েবী আওয়াজ আসলো হে প্রশান্ত নফস আপনি প্রসন্ন ও সন্তুুষ্টচিত্তে নিজ প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন।
আপনি আমার নেককার বান্দার মধ্যে শামিল হয়ে যান। এবং বেহেস্তে প্রবেশ করুন। এরপর তিনি পবিত্র কালেমা শরীফ পাঠ করতে করতে ৫৬১ হিজরী সনের ১১১৬ ঈসায়ী পবিত্র ১১ রবীউছ ছানী শরীফে বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ।উনার অনেক শান মান ফযিলত মুবারক।
এখন মূল যে বিষয় সেটা হলো,সাইয়্যিদুল আউলিয়া গাউছুল আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত বড় পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আমাদেরকে অর্থাৎ সমস্ত কায়িনাতকে জানতে হবে,
জেনে ইবরত নছিহত হাছিল করতে হবে। এর মাধ্যম দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিসবত কুরবত রেযামন্দি সন্তুুষ্টি মুবারক হাছিল করার কোশেশ করতে হবে। আর বর্তমান যামানায় যিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার হাক্বীক্বী রেযামন্দী সন্তুুষ্টি মুহব্বত মারিফত তায়াল্লুক নিসবত ব্যতীত এই কায়িনাতের পক্ষে কখনোই
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কুরবত নিসবত রেযামন্দি সন্তুুষ্টি মুবারক হাছিল করা কখনোই সম্ভব নয়।কাজেই যিনি খ্বলিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে সাইয়্যিদুনা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিসবত কুরবত রেযামন্দি সন্তুুষ্টি মুবারক হাছিল করার তাওফিক দান করেন।এবং আবাদুল আবাদের তরে উনার গোলামী করার তাওফিক দান করেন। এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ধ্যানে খেয়ালে মুহব্বতে মশগুল থাকার তাওফিক দান করেন।উনাদেরকে হাক্বীক্বী মুহব্বত মুবারক করার তাওফিক দান করেন। উনাদের মুহব্বত আমাদের অন্তরে রিযিক হিসেবে দান করেন। আমীন

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর