স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী:: টঙ্গীতে বিএনপি নেতার নাম ও দলের পরিচয় ব্যবহার করে ফুটপাত দখল এবং হকারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. সুমন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টঙ্গী থানা রোড ও হাসপাতাল সংলগ্ন ফুটপাত এলাকায় চাঁদা দাবি এবং অবৈধভাবে দোকান স্থাপনের সময় তাকে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, মো. সুমন নিজেকে ‘গাজী’ পদবি ব্যবহার করে বিএনপির পরিচয় দিয়ে স্টেশন রোডের ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় করছিলেন। এ ছাড়া ফুটপাত দখল করে দোকান স্থাপনেরও চেষ্টা করছিলেন তিনি। এ ঘটনায় ডাব বিক্রেতা জয়, চা দোকানি ওবায়দুল, বাদাম বিক্রেতা মো. ওয়াসিমসহ কয়েকজন হকার তাকে আটক করে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাহউদ্দিন বলেন, আমার নাম ও বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হকারদের আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর এবং এর প্রায় এক মাস আগেও তিনি সরেজমিনে স্টেশন রোড এলাকায় গিয়ে হকারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে দেন। একই সঙ্গে তার নাম বা বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ ফুটপাত দখল কিংবা চাঁদাবাজির চেষ্টা করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার নির্দেশনা দেন।
গাজী সালাহউদ্দিন আরও বলেন, মো. সুমন দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীতে বিএনপির কর্মী পরিচয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানতে পারেন। তার বিরুদ্ধে ফুটপাত দখল, চাঁদা দাবি ও বিভিন্ন ব্যক্তি-ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, সুমন তার নামের সঙ্গে ‘গাজী’ পদবি ব্যবহার করলেও তার জাতীয় পরিচয়পত্রে এ পদবি নেই। এ ছাড়া তার কাছে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার বিষয়েও তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। এসব বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি বলে দাবি করেন গাজী সালাহউদ্দিন। পরে থানায় উপস্থিত ভুক্তভোগী হকার ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে ভবিষ্যতে চাঁদাবাজি বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার মুচলেকা দেওয়ার পর সুমনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।