স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে হানি ওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেডের কয়েকশ শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কোনাবাড়ীর আমবাগ এলাকার মিতালী ক্লাবসংলগ্ন কারখানার সামনে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে শ্রমিকরা সড়কে কিছু কাগজে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে ওই সড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
বিক্ষোভরত শ্রমিকদের দাবি, প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিকের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বেতন না পাওয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা সড়কে নেমেছেন বলে জানান শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের পাশাপাশি নিয়মিত বেতন প্রদানের ব্যবস্থা এবং সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানান কয়েকজন শ্রমিক।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট ২০২৬ মাসের বেতন গত ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করার কথা থাকলেও তা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে কর্তৃপক্ষ ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরে ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর এবং ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর ধাপে ধাপে ছুটি বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বরও দুই দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার সকালে ছুটি থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বেতন পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অবস্থানের কারণে আমবাগ এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সমাধানে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ:
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন পিপিএম-সেবা বলেন, শ্রমিকরা তাদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন। আন্দোলনের মধ্যে সড়কে কিছু কাগজে আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ সমন্বয় করে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘মালিকপক্ষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি এবং তাদের ঘটনাস্থলে আসতে বলা হয়েছে। তারা এলে শ্রমিকদের পাওনা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা বিকেল পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের দাবি দ্রুত মেটানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে হানি ওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেড কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।