September 6, 2026, 5:14 pm

গাজীপুরে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় প্রধানমন্ত্রী কটূক্তি, তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, September 6, 2026
  • 17 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরে নিজ বাসার বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় প্রধানমন্ত্রী ও সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অকথ্য ভাষায় গালাগালের অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক যুবককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার এমন অশ্লীল গালাগালের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিলের যে কাগজকে ইস্যু করে ওই যুবক বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে গালাগাল করেছেন, সেই বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তদন্ত করেছে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। এতে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
সিফাত আব্দুল্লাহ তার ভিডিওতে দাবি করেন, তিনি গত দুই মাসে (আগস্ট-জুলাই) প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন এবং বিষয়টিকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেন, ‘এক মাসের বিদ্যুৎ বিল একটা পুরো পরিবারকে জিম্মি কইরা ফেলবে।’
এ ঘটনার পর গাজীপুর মহানগরীর গাছা ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সিফাত আব্দুল্লাহর বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যুৎ মিটার পরিদর্শন এবং কাস্টমারের লেজার প্রিন্ট, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেয়া তথ্য পর্যালোচনা করে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের দোতলা বিশিষ্ট বাড়িতে মোট ৩টি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ রয়েছে। ওই বাড়িতে একাধিক ভাড়াটিয়া পরিবার বসবাস করেন। সিফাত আব্দুল্লাহ যে বাড়িতে বসবাস করেন, সেই বাড়ির তিনটি মিটারের মে, জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিলের বিস্তারিত হিসাব অনুযায়ী-
S000433*7 নম্বর মিটারে মে মাসে ৪৫ ইউনিটে বিল আসে ৩১৭ টাকা, জুন মাসে ৫০ ইউনিটের বিল ৩৪২ টাকা, জুলাই মাসে ১৫০ ইউনিটের বিল ১,১৮২ টাকা এবং আগস্ট মাসে ৭৫ ইউনিটের বিল ৫১৩ টাকা আসে। চার মাসে মোট ব্যবহৃত হয় ৩২০ ইউনিট আর চার মাসের মোট বিল আসে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।
S000218*5 নম্বর মিটারে মে মাসে ২৫০ ইউনিটের বিল ১,৮১২ টাকা, জুন মাসে ২০০ ইউনিটের বিল ১, ৫৮৪ টাকা, জুলাই মাসে ৪০০ ইউনিটের বিল ৩, ৫৯৪ টাকা এবং আগস্ট মাসে ২৮৫ ইউনিটের বিল আসে ২, ৩৯৭ টাকা। চার মাসে মোট ব্যবহৃত হয় ১,১৩৫ ইউনিট আর চার মাসে মোট বিল আসে ৯, ৩৮৭ টাকা।
S000424*7 নম্বর মিটারে মে মাসে ১২৫ ইউনিটের বিল ৮৪৭ টাকা, জুন মাসে ১২০ ইউনিটের বিল ৬৯০ টাকা, জুলাই মাসে ২০৫ ইউনিটের বিল ১, ৬৩৩ টাকা এবং আগস্ট মাসে ১৭৫ ইউনিটের বিল আসে ১, ৩৬২ টাকা। চার মাসে মোট ব্যবহৃত হয় ৬২৫ ইউনিট আর চার মাসে মোট বিল আসে ৪, ৫৩২ টাকা। অর্থাৎ, মে থেকে আগস্ট ২০২৬, এই চার মাসে তিনটি আবাসিক মিটার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে এবং মোট বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সিফাত আব্দুল্লাহ যে বাড়িতে বসবাস করেন সেখানে একটি নয়, মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোন অভিযোগ বা দাবি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি মিটারের বিল আলাদাভাবে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাড়ির সবগুলো মিটারের ব্যবহার ও বিলের হিসাব ও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি বলে জানান পল্লীবিদ্যুত সমিতি।
গাজীপুরের বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আহসান কবীর জানান, আমরা ৪ জন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করি। এসময় আমার সঙ্গীয় কর্মকর্তারা সিফাতের বাড়িতে গিয়ে বাসায় ইলেকট্রিক পণ্যের প্রকৃত তালিকা সংগ্রহের কথা জানালে পা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং গেট বন্ধ করে দেন তার বাড়ির লোকজন। সিফাত আব্দুল্লাহর বাবা মো. সিকান্দার আলীর সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান বলেন, সিফাত আব্দুল্লাহর বাসার তিনটি মিটারে দুই মাসের বিল (জুলাই-আগস্ট ২০২৬) ১০ হাজার ৬৮১ টাকা। পল্লীবিদ্যুৎ তো গ্রাহক কপি দিয়ে বিল নেয়। অরিজিনাল বিল তাদেরটা আর গ্রাহকদেরটা ভৌতিক বিল। বাড়িটা সিফাতদের, ভাড়াটিয়াদের আলাপ সে স্পষ্ট করেই করেছিল। মিটার ৩টা। পল্লী বিদ্যুৎ ভৌতিক তথ্য দিচ্ছে।
তবে গাজীপুরের বোর্ড বাজার পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আহসান কবীর  বলেন, সম্প্রতি সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক যুবক সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বাসার বিদ্যুৎ বিল নিয়ে যে অভিযোগ করেছেন তার সুস্পষ্ট তদন্তে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তার বাসার বিদ্যুতের মিটারে যে ইউনিট এবং অফিসে আনা রিডিং ও বিল তৈরিতে কোনো প্রকার অনিয়ম বা ত্রুটি নেই।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে মো. আব্দুল্লাহ সিফাত (২৭) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতে উপস্থাপন করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সিফাত আব্দুল্লাহ্ গাজীপুর মহানগরীর (৩৮ নম্বর ওয়ার্ড) টিনের মসজিদ এলাকার মো. সিকান্দর আলীর ছেলে। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর