August 5, 2026, 7:05 pm

হাসিনাকে অডিও বার্তার সুযোগ দেওয়া ভারতের ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’: রিজভী

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, August 5, 2026
  • 29 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া ভারতের ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বা দ্বিমুখী নীতির বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের আন্দোলনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, ভারত এমন আচরণ করছে যেন অন্য দেশের কোনো পলাতক ও দাগি আসামি যদি ‘ভারতপ্রেমিক’ হয়, তাহলে তার সব অপরাধ ক্ষমাযোগ্য। ভারতের এ ধরনের অবস্থানের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। রিজভী বলেন, ভারতের দিল্লিতে ‘সাউথ এশিয়ান জার্নালিস্টস’-এর একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। শেখ হাসিনা পলাতক এবং বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও ভারত সরকার তার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনার জন্য ভারত সরকারের এত মায়া, এত কান্না এবং এত কুম্ভীরাশ্রু ঝরছে যে তাকে ভিডিও বার্তা না হলেও অডিও বার্তা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটি ভারত সরকারের ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের উদাহরণ।
আওয়ামী লীগের শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে দেশে একটি ‘নির্মম ও নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদের’ উত্থান হয়েছিল। শেখ হাসিনা ছিলেন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও মারাত্মক রক্তপিপাসু ফ্যাসিস্ট। নাৎসি হিটলার ও মুসোলিনির মতো ফ্যাসিস্টরা এথনিক ক্লিনসিং বা জাতিগত নিপীড়ন চালিয়ে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। কিন্তু তারা নিজের জাতিকে পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী করার চেষ্টাও করেছে। সারা পৃথিবীতে তারাই শক্তিশালী- এটা বলতে চেয়েছে। কিন্তু হিটলার বা মুসোলিনী শেখ হাসিনার মতো টাকা পাচার করেনি, ব্যাংকের টাকা লুট করেনি, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন করেনি, কিংবা সরকারি জমি দখল করেনি। এটাই হলো হিটলার-মুসোলিনির সঙ্গে শেখ হাসিনার পার্থক্য।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল এক বিশাল জাগরণ। এই গণঅভ্যুত্থান ছিল অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনগণের ভেতরের অফুরন্ত শক্তির এক পারমাণবিক বিস্ফোরণ।
রিজভী আরও বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যে সংগ্রাম করেছেন, প্রয়োজন হলে সেই সংগ্রামে তারা আবারও শামিল হবেন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর