ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:: দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তাদের (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) জমি দখল, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বৈষম্য দূর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার। তাদের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মাঝে সেলাই মেশিন, বাইসাইকেল, শিক্ষাবৃত্তির চেক ও ঘর বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের কষ্ট আমাদের কষ্ট। বিভিন্ন সময়ে সুবিধাবাদী লোকজন তাদের জমি দখল করেছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে রয়েছে। এই বৈষম্য দূর করাই আমাদের লক্ষ্য। প্রথমবারের মতো একটি রাজনৈতিক দল সংরক্ষিত মহিলা আসনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একজন প্রতিনিধিকে মনোনয়ন দিয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই একটি বড় সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি, ধর্মযাজক ও সাবেক খেলোয়াড়দের ভাতা প্রদানসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা সহায়তা পাবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, নিজেদের অধিকার আদায়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে আরো সোচ্চার হতে হবে। তাদের কোনো জমি যেন জোরপূর্বক দখল করা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে বর্তমানে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ক্রীড়া দলে খেলছে, যা জেলার জন্য গর্বের বিষয়।
বক্তব্যের শেষে বিগত নির্বাচনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চাই। আসুন, সবাই মিলে একটি বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলি। এ সময় জেলা প্রশাসক রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন৷