স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী :: গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকায় সাবেক সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভূমি দখল, তদবিরবাজি ও নানা অনিয়মে জড়িত।
অভিযোগ রয়েছে, নিজস্ব কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে সরকার থেকে বিনামূল্যের বই সংগ্রহ করেছেন তিনি। এছাড়া নিজেকে গাজীপুর জেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পূবাইল কলেজ গেট এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে আসাদের বিরুদ্ধে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠতার সুযোগে আসাদকে কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি করা হয়। ওই পদ পাওয়ার পর তিনি গাজীপুর মহানগরসহ জেলায় প্রভাব বিস্তার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, আসাদের আচরণ অনির্দেশ্য। কখন কীভাবে প্রভাব খাটাবেন, তা বোঝা কঠিন।
তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্কের দাবি করেন আসাদ। সরকারি দপ্তরে তদবির করে এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরেন।
এদিকে যুবদল নেতা নাহিদুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে আসাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে আসাদ এলাকায় ভূমিদস্যুতা, লুটপাট এবং কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন।
নাহিদুল ইসলাম বলেন, আসাদের অত্যাচারের কারণে আমরা স্বাভাবিকভাবে এলাকায় বসবাস করতে পারিনি। নিরীহ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হয়রানির মাধ্যমে সে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে আসাদ রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আসাদুজ্জামান আসাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।