স্পোর্টস ডেস্ক :: বাংলাদেশের নারী ফুটবলের কিংবদন্তি সাবিনা খাতুন। দীর্ঘ সময় দেশের জার্সিতে দলের অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। জিতেছেন টানা দুটি সাফ শিরোপা। এবার বাংলাদেশের সামনে নতুন এক সাফ মিশন ‘সাফ উইমেনস ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’।
এই আসরে প্রথমবার নারী ও পুরুষ দুই দলই অংশ নিচ্ছে সাফ ফুটসালে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে আগামীকাল দেশ ছাড়বে বাংলাদেশের নারী ও পুরুষ দল। পুরুষ দলের খেলা শুরু হবে ১৩ জানুয়ারি, আর নারী দলের ম্যাচ শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি। নারী ও পুরুষ দুই দলই খেলতে গেলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নারী ফুটসাল দল।
কারণ, এই দলে খেলছেন ২০২৪ সালের অক্টোবরে টানা দ্বিতীয় সাফজয়ী জাতীয় দলের পাঁচ সদস্য। ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে বিরোধের জেরে সাফ জয়ের পর থেকেই তারা মূল জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। ফুটসাল দলে অধিনায়কত্ব করছেন সাবিনা খাতুন। তাঁর সঙ্গে খেলছেন ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীন ও নিলুফা ইয়াসমিন নীলা এবং ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা রানী সরকার ও মাতসুশিমা সুমাইয়া।
আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে নারী ও পুরুষ ফুটসাল দলের অধিনায়ক, সহ-অধিনায়ক ও কোচদের নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাফুফে। এবারের আসরে নারী ও পুরুষ উভয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইরানের কোচ সাঈদ খোদারাহমি।
সংবাদ সম্মেলনে মূল আলোচনায় ছিলেন নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। ফুটবলে দুটি সাফ শিরোপা জেতা এই অধিনায়ক এবার ফুটসাল দলেরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রথম বাংলাদেশি নারী ফুটবলার হিসেবে বিদেশের ফুটসাল লিগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অভিজ্ঞতার দিক থেকেও তিনি দলের সবচেয়ে এগিয়ে থাকা খেলোয়াড়। সংবাদ সম্মেলনে তাই সাবিনাকে ঘিরেই ছিল বেশিরভাগ প্রশ্ন।
সাফ ফুটসালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। প্রথমবার এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নিয়ে সাবিনা বলেন, ‘আসলে কোনো টিমের সম্পর্কে আমাদের খুব বেশি ধারণা নেই। তবে মালদ্বীপের মেয়েরা মূলত ফুটসালই খেলে, তারা অভিজ্ঞ। সে দিক থেকে তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকবে। ভারতও বেশ কিছু ফুটসাল কোয়ালিফায়ার খেলেছে, তারা সব সময়ই শক্তিশালী এবং পরিকল্পনা করে আসে। বাকি দলগুলো আমাদের মতোই নতুন। তবে আমরা দেড় মাসের মতো ট্রেনিং করেছি, সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয় আমরা ভালো কিছু করতে পারব।’
অন্যদিকে পুরুষ দলের সহ-অধিনায়ক তুহিন বলেন, ‘আমরা প্রথমবার খেলতে যাচ্ছি। প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই স্বর্ণপদক জেতা। প্রতিপক্ষরা র্যাংকিংয়ে এগিয়ে, তবে আমরা আমাদের সেরা প্রস্তুতিটাই নিয়েছি।’
প্রতিপক্ষ সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য না থাকলেও খেলাটির সঙ্গে পরিচিত থাকার বিষয়টি সাবিনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। তিনি বলেন, ‘ফুটসাল কিভাবে খেলতে হয় সেটা আমরা জানি। শুরুতে ইনডোর পিচে অভ্যস্ত ছিলাম না, তবে আমাদের চেয়ারম্যান স্যার চেষ্টা করেছেন থাইল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য যতটা সম্ভব প্রস্তুতি দিতে। দল ভালো আছে। ইনশাল্লাহ, প্রথমবারের এই টুর্নামেন্টে ভালো কিছু হবে।’
ফুটবলের মতো ফুটসালেও ইতিহাস গড়তে চান সাবিনা খাতুন। এবারের আসরেই না হলেও লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। দৃঢ় কণ্ঠে সাবিনা জানান, ফুটসালে ইতিহাস গড়েই ক্ষান্ত হবেন বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি ফুটবলার।