বিনোদন ডেস্ক :: মানুষের হৃদয় আন্দোলিত করার লক্ষ্যে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলছে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা। বিনোদনের পাশাপাশি যা দর্শক-শ্রোতাকে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিকড়কে চেনানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের সামনে তুলে ধরছে যাপিত জীবনের অর্থ। করে তুলছে মানবিক। জাগিয়ে তুলছে স্বপ্ন রচনার বাসনা।
তাই নাচ, গান, নাটক, সিনেমাসহ সৃষ্টিশীল নানা ধরনের আয়োজনের মধ্যে শিল্পীরা যেমন তাদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি সুযোগ পাচ্ছেন বিশ্ববাসীর কাছে আত্মপরিচয় ও নিজস্বয়তা তুলে ধরার। কিন্তু সেই শিল্পী সত্তা যদি শিকল পরিয়ে রাখা হয়, তবে তা হবে শিল্প-সংস্কৃতির মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলার শামিল। এমন মন্তব্যই বিভিন্ন সময় শোনা গেছে সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রথিতযশা শিল্পীদের মুখে। যাদের অনেকেরই দাবি, দেশীয় জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমগুলো নির্দিষ্ট কিছু শিল্পীকে বছরের পর বছর সেখানে পারফর্ম করতে দেয় না। তাদের জন্য তৈরি করে রেখেছে এক অদৃশ্য কালো তালিকা; যা তৈরি করা হয়েছে মূলত শিল্পীদের রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে; যা পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় নীতিমালা বহির্ভূত একটি কাজ। যার সংস্কার অতি জরুরি বলেও অনেকের মত।
পেছন ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই, এরশাদ সরকারের শাসনকাল থেকেই জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে বেশ কিছু শিল্পী উপেক্ষার শিকার হতে। যারা বছরের পর বছর সেখানে পারফর্ম করার সুযোগ পাননি। পরবর্তী সময়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকারও শিল্পীদের রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কালো তালিকাভুক্ত করে রেখেছিল।
নন্দিত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনের নাম তালিকায় উঠেছিল ১৯৯৬ সালে। সেবার ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর ২০০৮ সালে একই রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে, সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ টেলিভিশনের কোনো আয়োজনে দেখা মেলেনি এই শিল্পীকে। যিনি ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছেন, তিনি নিজ দেশে উপেক্ষিতই থেকে গেছেন।