দৈনিক বিজয়বাংলা টিভি ডেস্ক :: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিলেও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে দলটি। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের তালিকাও প্রায় চূড়ান্ত করেছে জামায়াত।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায় থেকে পাঠানো সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম যাচাই-বাছাই শেষে ১২টি সিটি করপোরেশনের জন্য সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সাংগঠনিক সভা ও দায়িত্বশীল সমাবেশে তাদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে দলটির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর জামায়াতের আমির আবদুল জব্বার। তিনি অতীতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে হাফিজুর রহমান-এর নাম। বর্তমানে তিনি তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারিও ছিলেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী। তিনি এর আগে কাউন্সিলর ছিলেন এবং সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।রংপুর সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছেন মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান।
এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন-এর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনা হচ্ছে। আর ঢাকা দক্ষিণে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ডাকসু ভিপি আবু সাদিক, যিনি সাদিক কায়েম নামেও পরিচিত। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাকি সিটিগুলোর জন্যও প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ১১-দলীয় ঐক্যের ব্যানারে অংশ নিয়েছিল। ওই জোটে বিভিন্ন ইসলামি দলের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি-ও ছিল। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ভোটে দলটি নিজস্ব প্রতীক ও প্রার্থী নিয়ে মাঠে নামতে আগ্রহী।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য অধিকাংশ জায়গায় দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রার্থী নির্বাচনে সাংগঠনিক দক্ষতা, জনপ্রিয়তা ও জনগ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিছু এলাকায় জোটের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ থাকলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবেই অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত। দলের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের-ও জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রতিটি দল নিজ নিজ প্রার্থী দেওয়ার নীতিতেই রয়েছে।