July 23, 2026, 4:23 pm

মডেল সিটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করলেন মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খান

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ::
  • আপডেট Sunday, May 21, 2023
  • 266 জন দেখেছে

গাজীপুর সিটিকে মডেল সিটিতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান। আজ রবিবার দুপুরে নগরীর রাজবাড়ী সড়কের প্রকৌশলী ভবনে নির্বাচনি ইশতেহার তুলে ধরেন তিনি। এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লা মণ্ডলসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওয়াদা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবেন জানিয়ে ইশতেহারে আজমত উল্লা খান উল্লেখ করেন, সঠিক পরিকল্পনায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সেবামূলক খাতগুলো আরও শক্তিশালী করা হবে। নির্বাচিত হলে তার প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সিটি মাস্টারপ্ল্যান ও জনগণের অংশগ্রহণে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন।

ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি:

১. স্মার্ট বাংলাদেশ যাত্রার সঙ্গে সংগতি রেখে আধুনিক মহানগর ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

২. নগরীর উন্নয়নে ‘পরামর্শক কমিটি বা নগর উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি’ গঠন। তাদের পরামর্শ ও সুপারিশের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়নমূলক প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

৩. হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সনদের ফি, ইউটিলিটি বিলসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা অনলাইন করা হবে। এছাড়া ওয়ার্ডগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।

৪. হোল্ডিং ট্যাক্সের হার না বাড়িয়ে রিভিউ বোর্ডের মাধ্যমে সহনশীল পর্যায়ে চূড়ান্ত করা সরকার কর্তৃক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যথাযথভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রদান করা হবে।

৫. শ্রমজীবীদের সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ, স্বল্পমূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সেবা, দুঃস্থদের মৃত্যুর পর প্রয়োজন অনুযায়ী কাফনের কাপড়ের ব্যবস্থা করা। এছাড়া শ্রমিক, বস্তিবাসী ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য কার্ড প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ।

৬. পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি সেবাদানকারী স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সমন্বয় সেবা নিশ্চিত করা।

৭. নগরীতে যানজট নিরসনে বিআরটিএ, ট্র্যাফিক পুলিশ ও পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে বহুতল ও আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং কমপ্লেক্স নির্মাণ, আধুনিক বাসস্ট্যান্ড ও বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ।

৮. জিসিসির অধীনে কারিগরি ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। নগরীতে অবস্থিত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও এতিমখানায় সাহায্য দেওয়া করা হবে। এছাড়া অনাথ, যোগ্যতাসম্পন্ন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

৯. পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার সংরক্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। শ্রমজীবী মায়ের শিশুদের পরিচর্যায় সব ওয়ার্ডে ‘ডে-কেয়ার’ সেন্টার স্থাপন ও বিকেল ৫টার পর টিসিবি’র সরবরাহকৃত খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

১০. সব ওয়ার্ডে ঈদগাহ ও কবরস্থান নির্মাণ, শ্মশানগুলোর উন্নয়ন ও নির্মাণ, নগরীর উপযুক্ত স্থানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য সমাধিক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ।

১১. পরিবেশ রক্ষা ও মশা নিধনে পরিবেশ অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট শিল্প-কলকারখানা, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

১২. কাঁচা বাজার ও মার্কেটগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন ও হকারদের পুনর্বাসনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া ফ্রাইডে মার্কেট স্থাপন ও নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হবে।

১৩. সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া নাগরিকদের কথা শুনতে ‘জনতার মুখোমুখি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর