স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের টঙ্গীতে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেলিম বেপারি নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে দেখা না গেলেও বর্তমানে নিজেকে টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, টঙ্গী পশ্চিম থানার সুরতরঙ্গ রোড এলাকায় সেলিম বেপারির বাড়ির পাশে পাঁচ কাঠা জমির ওপর ২৭ জন অংশীদারের মালিকানায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্মাণকাজ শুরু হলে সেলিম বেপারি ওই ভবনের মালিকদের কাছে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় তিনি নির্মাণকাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন জমির মালিকরা।
জমির মালিকদের একজন টঙ্গী কলেজ গেট এলাকার মাহবুব ফার্নিচারের মালিক বাবুল মিয়া বলেন, নির্মাণকাজ চালু রাখার জন্য ঈদুল আজহার আগে সেলিম বেপারিকে ৫ লাখ টাকা নগদ দিতে বাধ্য হন তারা। তবে টাকা দেওয়ার পরও নির্মাণকাজ শুরু করতে দেওয়া হয়নি। বাকি ২০ লাখ টাকা না দিলে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে সেলিম বেপারি হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমরা ২৭ জন মিলে জমিটি কিনেছি। ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করার পর সেলিম বেপারি ২৫ লাখ টাকা দাবি করেন। কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পর বাধ্য হয়ে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও কাজ শুরু করতে দিচ্ছেন না। এখন বাকি ২০ লাখ টাকা দাবি করছেন।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সেলিম বেপারি নিজেকে যুবদলের নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক পদ নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জীবনের নিরাপত্ত চেয়ে আউচপাড়ার একজন ভুক্তভোগী সম্প্রতি টঙ্গী পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সেলিম বেপারির বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। জমির মালিকদের দাবি, চাঁদা দাবির কারণে শুধু নির্মাণকাজই বন্ধ হয়নি, এতে তাদের আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।