সাভার প্রতিনিধি :: সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানোর শ্রমিকদের স্মরণে পোশাক শিল্পে শোক দিবস ঘোষণা, রানা প্লাজার সামনে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের এক জীবনের ক্ষতিপূরণসহ নানা দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মোমবাতি প্রজ্বালন করেছে হতাহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত শ্রমিক ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধায় রানা প্লাজার সামনে নির্মিত শহীদ বেদীতে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহত এবং নিখোঁজদের স্মরণ করেন আহত শ্রমিক, নিহত ও নিখোঁজের স্বজন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় নেতাকর্মীরা তাদের বক্তব্যে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। যার মধ্যে রয়েছে, ২৪ এপ্রিলকে জাতীয়ভাবে শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণা করা, রানা প্লাজার সামনে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা, রানা প্লাজার জমি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং হতাহত শ্রমিকদের এক জীবনের আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘প্রতিবছর এই দিনে আমরা নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করি। প্রতিবছরই আমরা একই দাবি তুলে ধরি। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির কোনোটাই বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার আমাদের দাবিগুলো পূরণ করবে। ভবন মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম, শ্রমিক নেতা আবু কালাম, আলী আকবর, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সাভার উপজেলা কমিটির সভাপতি এমদাদুল ইসলাম এমদাদ, সাভার থানা কমিটির সভাপতি কবির খান মনির, সাভার থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন হোসেন মোতালেব, বাংলাদেশ ন্যাশনল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রাসেল প্রামাণিক।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক নিহত এবং আহত হন প্রায় ২ হাজার শ্রমিক।