মো: মুর্শিকুল আলম:: মৌসুমের ভরা সময়ে যে কাঁঠাল ১০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে, মৌসুম ফুরিয়ে আসায় তার দাম উঠেছে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। সরবরাহ কমে যাওয়ায় গাজীপুরের শ্রীপুরের বাজারগুলোতে এখন কাঁঠাল হয়ে উঠেছে দামি ফল। শ্রীপুরের বরমী বাজার ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমের সময়কার সেই চেনা কাঁঠালের স্তূপ নেই। কয়েকজন বিক্রেতার ভ্যান ও দোকানে অল্পসংখ্যক কাঁঠাল দেখা গেলেও প্রতিটির দাম শুনে চমকে উঠছেন ক্রেতারা। আকার ও জাতভেদে এসব কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৯০০ টাকায়। বড় ও সুস্বাদু কাঁঠালের ক্ষেত্রে দাম চাওয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। বরমী বাজারে মাত্র আটটি কাঁঠাল নিয়ে বসেছিলেন পাইকার বিল্লাল হোসেন। তার কাছে থাকা কাঁঠালগুলোর দাম আকারভেদে ২০০ থেকে এক হাজার টাকা। বড় একটি কাঁঠাল দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এক হাজার টাকার এই কাঁঠাল সিজনে দাম ১০ টাকাও না। কিছু গাছে শেষ সিজনে কাঁঠাল ধরে। এগুলো আমরা বেশি দামে কিনে আনি।
একই বাজারে ১৫টি কাঁঠাল নিয়ে বসেছিলেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী। তার কাঁঠালগুলোর দাম ২০০ থেকে ৮০০ টাকা। তিনি জানান, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কাঁঠালের জোগান থাকে প্রচুর। ফলে কম দামে গাছ থেকে কাঁঠাল সংগ্রহ করা যায়। মৌসুম শেষ হলে গাছে ফল কমে যাওয়ায় কাঁঠাল সংগ্রহের খরচ বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে বাজার দরেও। মৌসুমের শেষ কিছু কাঁঠালের স্বাদও ক্রেতাদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করছে। তিনি বলেন, বড় একটা কাঁঠালের দাম এক হাজার টাকা। মিষ্টি বেশি, কোষ বড়, গন্ধ মধুর মতো।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত শ্রীপুরের বিভিন্ন বাজারে কাঁঠালের সরবরাহ থাকে সবচেয়ে বেশি। গ্রামের গাছ থেকে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল বাজারে আসায় তখন দামও থাকে তুলনামূলক কম। কখনো কখনো অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে ১০ টাকাতেও কাঁঠাল বিক্রি হতে দেখা যায়। মৌসুম শেষ হতেই চিত্র পাল্টেছে। জৈনাবাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, নয়নপুর, বরমী ও মাওনা চৌরাস্তার বাজারগুলোতে এখন আগের মতো কাঁঠাল মিলছে না। ফলে সীমিত সরবরাহের বিপরীতে নির্দিষ্ট ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় দামও বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে কাঁঠালের সরবরাহ খুবই কম। দু-একটি কাঁঠাল পাওয়া গেলেও সৌখিন ক্রেতারা বেশি দাম দিয়েই তা কিনছেন। মৌসুমের শেষ কাঁঠাল ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নিয়ে গেলে ভালো দাম পাওয়া যায়।
ফল ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন বলেন, কাঁঠালের সব জাত একই সময়ে ফল দেয় না। কোনো কোনো জাত আগাম ফল দেয়, আবার কিছু জাতের গাছে মৌসুমের শেষ দিকে কাঁঠাল আসে। শেষ সময়ে এসব কাঁঠালের সংখ্যা কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই বাজারে দাম বেড়ে যায়। তার মতে, কাঁঠালের জাত নির্বাচনেও কৃষকদের গুরুত্ব দেওয়া দরকার। আগাম ও শেষ মৌসুমের কাঁঠালের আলাদা বাজার চাহিদা থাকায় পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন জাতের চারা রোপণ করতে পারলে উৎপাদনের সময় বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের লাভের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, “বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কিছু আগাম ও ১২ মাসি কাঁঠালের জাত উদ্ভাবন করেছে। জাত বুঝে চারা রোপণ করা হলে কৃষকরা সারা বছর কাঁঠাল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন এবং ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে। চলতি বছর শ্রীপুরে কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ মেট্রিক টন। গত বছরও প্রায় একই লক্ষ্যমাত্রা ছিল এবং তা অর্জিত হয়েছে।