August 7, 2026, 3:30 am

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি, দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, August 6, 2026
  • 17 জন দেখেছে

ঈশ্বরগঞ্জ ( ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সবজির বাজারেও বেড়েছে দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের সবজির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে সীমিত আয়ের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সংসারের ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
বাজারে মাছ ও মাংসের দাম আগে থেকেই চড়া। তুলনামূলক কম খরচে পরিবারের খাদ্যচাহিদা মেটাতে অনেকেই সবজির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তবে সবজির দামও বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি কিনছেন। কেউ আবার বেশি দামের সবজি বাদ দিয়ে তুলনামূলক কম দামের সবজি দিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কয়েক ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বর্তমানে কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, কাকরোল ৫০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা এবং শসা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া গাজর কেজিপ্রতি ১২০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, পটোল ৪০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, জামআলু ৫০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং চালকুমড়া ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচাকলা প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।
সবজির দাম বৃদ্ধিতে বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। অনেকের অভিযোগ, আগে যে টাকায় কয়েক ধরনের সবজি কেনা যেত, এখন সেই টাকায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ সবজি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও আয় না বাড়ায় সংসারের ব্যয় মেটাতে নানা সংকটে পড়তে হচ্ছে।
পৌর কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা এনামুল হক বলেন, ‘আগে ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে এলে পরিবারের জন্য কয়েক ধরনের সবজি কেনা যেত। এখন সবজির দাম এত বেশি যে প্রয়োজন অনুযায়ী কিনতে পারছি না। মাছ-মাংসের দাম বেশি হওয়ায় অনেক সময় সবজির ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এখন সবজিও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।’
আরেক ক্রেতা চন্দন চন্দ্র শীল বলেন, ‘প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সংসারের অন্যান্য খরচের সঙ্গে বাজার খরচও বেড়েছে। আয় সীমিত হওয়ায় বাধ্য হয়ে আগের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি কিনতে হচ্ছে।’
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে পাইকারি বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম বেড়েছে। আমরা বেশি দামে সবজি কিনে আনায় খুচরা বাজারেও কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সবজির দাম বাড়লেও আমাদের লাভ তেমন বাড়েনি। পরিবহন খরচ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় মিটিয়ে সামান্য লাভেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে কাঁচামরিচ, শিম, গাজর ও টমেটোর দাম তুলনামূলক বেশি। সরবরাহ কম থাকলে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যায়। আবার একেক দিন একেক দামে সবজি কিনতে হয়। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে আসতে পারে।’
একই বাজারের আরেক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, ‘সবজির দাম বাড়লে অনেকেই মনে করেন ব্যবসায়ীরা বেশি লাভ করছেন। কিন্তু বাস্তবে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হয়। পরিবহন খরচসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ করে খুচরা বাজারে বিক্রি করতে হয়। সবজি দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকায় বেশি দামে কিনেও সব সময় লাভ করা যায় না।’
তিনি জানান, দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই আগের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি কিনছেন। আগে যারা এক কেজি কিনতেন, তারা এখন আধা কেজি বা তারও কম কিনছেন। এতে বিক্রিও কিছুটা কমেছে।
ব্যবসায়ী রতন বলেন, ‘বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন এলাকায় সবজির উৎপাদন ও সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ও শ্রমিকের ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে। আমরা যে দামে কিনি, সেই অনুযায়ী পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় যোগ করে খুচরা বাজারে বিক্রি করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরাও চাই সবজির দাম কম থাকুক। দাম কম হলে ক্রেতারা বেশি পরিমাণে সবজি কিনবেন এবং বিক্রিও বাড়বে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কিছু সবজির দাম কমে আসতে পারে।’
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই বাজারে বিভিন্ন দোকানে একই সবজির দামে পার্থক্য দেখা যায়। নিয়মিত মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও বাজার তদারকির অভাবে অনেক ক্রেতা প্রকৃত দাম সম্পর্কে জানতে পারেন না। ফলে কেউ কেউ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দামে সবজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
ক্রেতাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, মৌসুমি পরিবর্তন, বৃষ্টি, প্রতিকূল আবহাওয়া, উৎপাদন কমে যাওয়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণেই সবজির দাম বেড়েছে। পাশাপাশি কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত একাধিক ধাপে হাতবদলের কারণেও বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও তারা সব সময় ন্যায্যমূল্য পান না। মাঠপর্যায়ে কম দামে বিক্রি হওয়া সবজি বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে কয়েক গুণ দামে বিক্রি হয়। তাই কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, একই সঙ্গে ভোক্তারাও তুলনামূলক কম দামে সবজি কিনতে পারবেন।
বর্তমানে সবজির বাজারের এই ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। সংসারের ব্যয় কমাতে অনেক পরিবার প্রয়োজনের তুলনায় কম সবজি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। দ্রুত বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর