April 29, 2026, 6:40 pm

ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত: ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, April 29, 2026
  • 19 জন দেখেছে

দৈনিক বিজয়বাংলা ডেস্ক :: দেশজুড়ে শুরু হওয়া ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা শুরু হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলেও দ্রুত পানি বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সতর্ককরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজার জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। হবিগঞ্জ, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার থেকেই দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি আগামী ৪ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে (১৬১ মিলিমিটার)। এ ছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বিপৎসীমার ওপরে চার নদীর পানি:
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের চারটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো হলো:
ভুগাই কংস: জারিয়াজঞ্জাইল পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপরে।
মনু: মৌলভীবাজার পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপরে।
সোমেশ্বরী: কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে।
এ ছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও গত কয়েক দিনে এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে। প্রকৌশলীদের মতে, এই নদীগুলো আকারে ছোট হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বেড়ে গিয়ে বন্যার সৃষ্টি করে।
এ ছাড়া বন্যা কবলিত ও আশপাশের এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ১৪২ মিলিমিটার
কুমিল্লা: ১৩৫ মিলিমিটার
হবিগঞ্জ: ১২৫ মিলিমিটার
ভৈরববাজার: ১০৫ মিলিমিটার
নরসিংদী: ৮৪ মিলিমিটার
সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর