আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে তীব্র উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। কারণ, গত তিন বছরের মধ্যে এশিয়ার তিনটি দেশে টানা গণঅভ্যুত্থানের ঢেউয়ে ক্ষমতাসীন দলগুলো ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। থাইল্যান্ড, নেপাল ও বাংলাদেশে সংঘটিত এই গণআন্দোলনগুলো ভারতের রাজনীতিতেও আলোড়ন তুলেছে।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন, ১৯৭৪ সাল থেকে ভারতজুড়ে সরকারবিরোধী যেসব আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান তৈরি করে গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মোদি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর গণআন্দোলনের প্রভাব ভারতেও পড়তে পারে। তাই গোয়েন্দা সংস্থা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং প্রশাসনিক শাখাকে নিয়ে একটি বিশেষ পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গণআন্দোলনের পেছনে দীর্ঘদিনের সামাজিক অসন্তোষ, রাজনৈতিক দমননীতি ও অর্থনৈতিক বৈষম্যই মূল কারণ। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব বিষয়ে ভারতেরও নজর দেওয়া প্রয়োজন, নইলে প্রতিবেশী দেশের মতো পরিস্থিতি ভারতের ভেতরেও সৃষ্টি হতে পারে।
সরকারি মহল সূত্রে জানা গেছে, মোদি চান অতীতের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য কৌশল নির্ধারণ করতে। তবে বিরোধী দলগুলো বলছে, সরকারের আতঙ্ক প্রমাণ করে জনগণের ভেতর অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে যে, সত্যিই কি ভারত সরকার এখন গণআন্দোলনের ভয়ে অস্থির হয়ে পড়েছে।