নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টঙ্গীর স্বনামধন্য সরকার পরিবারের সন্তান, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ হাসান উদ্দিন সরকারের ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকার। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক শ্রম-বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন একজন জনপ্রিয় নেতা। এই জনপ্রিয়তাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের।
২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গী নোয়াগাঁও স্কুল মাঠে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার। এ ঘটনায় আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছোট ভাই মতিউর রহমান মতি বাদী হয়ে ১৭ জনের নামে টঙ্গী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারকে আসামী করা হয়। ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল বিচারিক আদালত এই মামলায় বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদন্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেন। হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন ৬ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল এবং ৭ জনের মৃত্যুদন্ড বদলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। এ ছাড়া দুজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড বহাল রাখেন। রায়ে ১১ জনকে মামলা থেকে খালাস দেন উচ্চ আদালত। এই মামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকার দীর্ঘ ২২ বছর কারাগারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, একটি সভ্য, গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্রে বিচার কখনোই রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে প্রভাবিত হতে পারে না। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
আমরা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচারিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, গাজীপুরের কৃতিসন্তান, মাটি ও মানুষের নেতা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক শ্রম-বিষয়ক সম্পাদক, জননন্দিত জননেতা, কারারুদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকার এর নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ ন্যায়সঙ্গত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন হওয়া উচিত এবং তিনি যেন আইনের দৃষ্টিতে প্রাপ্য ন্যায়বিচার পান।
আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকান্ড ছিলো আওয়ামী লীগের দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের। কিন্তু এ হত্যাকান্ডকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগ তাদের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চেয়েছিলো। আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী পরিকল্পিতভাবে নারকীয় তান্ডব চালিয়ে তৎকালীন চার দলীয় জোট সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে চেয়েছিলো। একইসাথে টঙ্গী বিএনপির জনপ্রিয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম সরকারকে ফাঁসিয়ে আহসান উল্লাহ মাস্টারের পরিবার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে চেয়েছিলেন।