সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:: সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম বলেছেন, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে রেলওয়ের আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়ানো এবং কোচ মেরামতের মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে বেলা ৩টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, রেলওয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জমি পৌরসভার দখলে রয়েছে। এ নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রেলওয়ের জমি চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রেলওয়ের জমি প্রথমে রেলের নিজস্ব প্রয়োজনে এবং পরে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। ব্যক্তি ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর ব্যবহারে থাকা জমির ক্ষেত্রেও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে নতুন করে জমি লিজ দেওয়া বন্ধ রয়েছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং কোচ মেরামতের মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে মিলিয়ে প্রায় ৪০০ কোচ মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কোচ মেরামত করে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করতে দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একসময় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রায় ১২ হাজার ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি হতো। বর্তমানে তা কমে ৬৫৪ থেকে ৬৫৫টিতে নেমে এসেছে। ফলে অনেক যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ উদ্যোগ নিলে এসব যন্ত্রাংশের অনেকগুলোই দেশে উৎপাদন করা সম্ভব। দেশের প্রায় ৯টি রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। রেলওয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসক ও নার্সের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবা নিশ্চিত করতে নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সকালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভিন্ন উপকারখানা ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি রেল কোচের কিছু মেরামত কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) হাবিবুল হাসান রুমি।
এ সময় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় কর্মকর্তা শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ, কর্মব্যবস্থাপক এম মমতাজুল ইসলাম, নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমাসহ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।