মো: জাফর আলী :: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বাংলালিংকের আঞ্চলিক পরিবেশক সিম বিক্রয় প্রতিনিধি জাহিদ হাসান জনি (২৪) কে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ৫জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে-মো. হেমায়েত হোসেন (৩৩), মো. খোরশেদ আলম (৩০), মো. বিল্লাল (৩০), লিয়াকত আলী খান ও মো. সালাউদ্দিন। নিহত জাহিদ হাসান জনী ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার বিয়ার্তা গ্রামের মৃত রোকন উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহানগরীর পুবাইল থানা এলাকায় বাংলালিংক সিম বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করতেন। সিম বিক্রয়ের টাকা নির্দিষ্ট সময়ে বুঝিয়ে না দেওয়ায় বাংলালিংক কোম্পানির প্রতিনিধি মো. হেমায়েত হোসেন, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, মো. বিল্লালগং গত মঙ্গলবার টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। পরবর্তীতে টাকা না পাওয়ায় গত বুধবার রাতে বাংলালিংক কোম্পানীর উল্লেখিত ৩জনসহ বাড়ীওয়ালা লিয়াকত আলী খান, তার মেয়ের জামাই মো. সালাউদ্দিন শুভ এবং বাড়ীওয়ালা মালিক সমিতির লোকজনসহ টাকার জন্য জনিকে বাড়ীওয়ালার একটি কক্ষে আটকিয়ে বাহির থেকে তালাবদ্ধ করে রাখে। এ সময় জনির স্ত্রী নূসরাত জাহান তিশাকে বাড়ীওয়ালার মেয়ে সাথে তাদের বাসায় রাখেন। বুধবার সকালে আসামীগণ তালা খুলিয়া ভেতর থেকে আটকানো থাকায় দরজা ভাঙ্গিয়া দেখতে পায় জাহিদ হাসান জনি সিলিং ফ্যানের সাথে রশ্মি বেধে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে রয়েছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। মামলা নং-০৬। উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই শরীফ হোসেন টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন শফিউদ্দিন এলাকা থেকে এজাহার নামীয় উপরে উল্লেখিত ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।