শেখ কামরুল হাসান সাহা:: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর মুদাফা পশ্চিমপাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগর। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সহায়তার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এর আগে অগ্নিকাণ্ডের দিনই জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ৫২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থা, খাবার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।
আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, নায়েবে আমীর খায়রুল হাসান, সহকারী সেক্রেটারি মো. আফজাল হোসাইন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, টঙ্গী পশ্চিম থানা জামায়াতের আমীর মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, জামায়াত নেতা সাঈদুর রহমান, কামরুজ্জামান মামুন এবং ৫২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর ও সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মকবুল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ড. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক দায়িত্ব নয়, এটি একজন মানুষের নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। যারা মুহূর্তের মধ্যে তাদের ঘরবাড়ি, সহায়-সম্বল ও জীবনের সঞ্চয় হারিয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবানদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি অগ্নিকাণ্ড শুধু কয়েকটি ঘর ধ্বংস করে না, এটি বহু পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকে বিপর্যস্ত করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি।’ তিনি নগর কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রকাশ। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সহায়তা গ্রহণকারী ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আমাদের খোঁজখবর নেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে খাবারের ব্যবস্থা করেন, থাকার ব্যবস্থা করেন এবং পরে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন। এমন সহযোগিতা দুর্যোগের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অনেক বড় সাহস ও অনুপ্রেরণা।
উল্লেখ্য, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে টঙ্গীর মুদাফা পশ্চিমপাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২৫টি টিনশেড বসতঘর পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।