দেওয়ান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, বিশেষ প্রতিবেদক :: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নানা প্রশ্ন উঠেছে। তালিকায় এমন শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া গেছে, যাঁরা ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন কিংবা বহিষ্কৃত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছেন। এমনকি যাঁরা ভর্তি বাতিল করে অন্যত্র চলে গেছেন বা বিদেশে পড়াশোনা শুরু করেছেন, তাঁদের নামও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আবু নূর মোহাম্মদ ফুসফুসজনিত রোগে এ বছরের ৩০ মে মৃত্যুবরণ করেন। অথচ সদ্য প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম এখনো বহাল। একই তালিকায় পাওয়া গেছে আন্দোলনে জড়িত থাকার দায়ে বহিষ্কৃত কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার নামও।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে রবিবার রাতে প্রকাশিত তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৯১৯ জন। এর মধ্যে ছেলেশিক্ষার্থী ৬ হাজার ১০২ এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৮১৭ জন। এই বিশাল তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, শহীদ সালাম-বরকত হল, মওলানা ভাসানী হল ও সুফিয়া কামাল হলসহ একাধিক হলে এমন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে, যারা অনেক আগেই পড়াশোনা শেষ করেছেন অথবা বিদেশে গেছেন।
জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনায় শাস্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন নেতাকর্মীর নামও ভোটার হিসেবে থেকে গেছে। চিরতরে বহিষ্কৃত মো. রিজওয়ান রাশেদ (সোয়ান) ও মো. তামিম হোসেনের নাম পাওয়া গেছে ২১ নম্বর হলে। একইভাবে দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত আদনান সাইফ ও সাইফুল ইসলাম ভূইয়ার নামও চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা যদি ত্রুটিপূর্ণ হয়, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও সন্দেহ থেকে যায়। শাখা ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, ভোটার তালিকায় ছবি না থাকায় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অন্য কেউ সহজেই ভোট দিতে পারে। ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘ প্রস্তুতির পরও প্রশাসন নির্ভুল তালিকা দিতে ব্যর্থ হওয়া দুঃখজনক। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও জাকসু নির্বাচনের সদস্যসচিব অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম জানিয়েছেন, ২৮ আগস্ট পর্যন্ত তালিকা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষায়, যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন। আবার যাঁদের নাম থাকা উচিত নয়, তাঁরাও তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।