স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: ‘আমাদের শহর, আমরাই পরিষ্কার রাখব’-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে চালু করেছে ‘মডেল পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন’। দেশের বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন ৩২৯.৫৩ বর্গকিলোমিটারের বিশাল গাজীপুর নগরকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ১০টায় শরীফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসিবুল ইসলামের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
পরের অংশে বর্জ্য সংগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে সড়কজুড়ে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ছড়িয়েুছিটিয়ে থাকা ময়লা সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে জমা রাখেন। পাশাপাশি ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করা হয় বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট বড় বাকেট।
জানা যায়, গাজীপুর সিটির ৫৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৪ নং ওয়ার্ডই সর্বাধিক বর্জ্য উৎপাদনকারী এলাকা। জনবহুলতা, গিঞ্জি বসতি, পলিথিনের স্তুপ, ড্রেন অবরুদ্ধ হওয়া এবং শিল্পকারখানার বর্জ্যের কারণে এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভুগছিল। এ অবস্থা কাটাতে জাইকার কারিগরি সহায়তায় এটিকে ‘মডেল ওয়ার্ড’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয় সিটি কর্পোরেশন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিসিসির সিনিয়র নগর পরিকল্পনাবিদ মইনুল ইসলাম। তিনি বলেন-পরিষ্কার শহর গড়তে হলে আগে নাগরিকদের নিজস্ব আচরণ পরিবর্তন জরুরি। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেললেই অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেললে কোনো শহরই পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়।
বক্তারা আরও বলেন, পলিথিন পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি করছে, যা ড্রেন বন্ধ করে জলাবদ্ধতা তৈরি ছাড়াও খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
ক্যাম্পেইনকে ঘিরে ওয়ার্ডজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী নানা আয়োজন-জনসচেতনতামূলক মাইকিং, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সভা। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা-জান্নাতুল ফেরদৌস (তৃতীয় শ্রেণি) প্রথম, পাপড়ি বিশ্বাস (চতুর্থ শ্রেণি) দ্বিতীয়, জান্নাতুল মাওয়া (চতুর্থ শ্রেণি) তৃতীয়। অভিভাবক প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা তানিয়া প্রথম, অঞ্জনা বিশ্বাস দ্বিতীয়, রেহেনা পারভীন তৃতীয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে মেডেল তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, বাজার ও শিল্পকারখানার বর্জ্য যেন লোকালয়ে প্রবেশ না করে—এ বিষয়ে জিসিসির কড়া নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। তারা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও নাগরিকবান্ধব বলেও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আফরোজা বেগম, সহকারী শিক্ষা অফিসার আকরাম হোসেন, জাইকার ইউডিসিজিপি প্রকল্পের টিম লিডার রেমন্ড গার্সিয়া গো, জিসিসির সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক আরিফুর রহমান,সলিড ওয়েস্ট স্পেশালিস্ট শরীফুল আলম মণ্ডল, প্রধান শিক্ষিকা সুলতানা পারভিনসহ নানা কর্মকর্তা।
বক্তারা স্বীকার করেন, বিশাল এলাকার তুলনায় সিটির জনবল সীমিত হলেও উদ্যোগ, ইচ্ছাশক্তি ও নাগরিকদের সহযোগিতা থাকলে গাজীপুরকে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব। ৩৪ নং ওয়ার্ডে শুরু হওয়া এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতার মাধ্যমে পুরো গাজীপুরকেই ধীরে ধীরে স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।