স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: শিক্ষক-শিক্ষিকাদের “সম্প্রীতির বন্ধন, কৃতিত্বের স্বীকৃতি” এই প্রতিপাদ্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শিক্ষক সন্ধ্যা ২০২৫’।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির আয়োজনে বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে এই ব্যতিক্রমধর্মী ও জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ব বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে পৌষ-মাঘের ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসবে। শীতের আমেজে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পিঠা উৎসবটি পরিণত হয় মিলনমেলায়, যেখানে হাসি, গল্প ও ঐতিহ্যের আবহে এক অনন্য পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এরপর বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সদ্য বিদায়ী সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আবু আশরাফ খান। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন শিক্ষক সমিতির সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. মসিউল ইসলাম।
আলোচনা সভার এক আবেগঘন মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সম্মানিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ভাইস-চ্যান্সেলর। এই সময় তাদের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের কীর্তিগাঁথা স্মরণ করা হয় গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। একই সঙ্গে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে গবেষণায় বিশেষ উৎকর্ষ সাধনকারী শিক্ষকদের সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়, যা গবেষণায় আরও উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করে।
অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের শিক্ষক সমিতির সদস্যবৃন্দকে সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং ২০২৬ সালের নবনির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সদস্যদের ভাইস-চ্যান্সেলরসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে গাকৃবির শিক্ষকদের একাডেমিক, গবেষণা ও প্রশাসনিক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি তার শিক্ষক সমাজ। শিক্ষকদের নিষ্ঠা, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপরই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও অগ্রযাত্রা নির্ভর করে।
তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের উত্তরাধিকার বহন করেই গাকৃবি আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বিবিধ র্যাঙ্কিংয়ে গৌরবময় অবস্থান অর্জন করে এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি শিক্ষক সমাজের ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। পরবর্তীতে গাকৃবির শিক্ষকবৃন্দ ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যের মনোজ্ঞ পরিবেশনা, যা সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আকার নেয়। দিনব্যাপী এই হৃদ্যতাপূর্ণ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে সকলের সমবেত অংশগ্রহণে এক জমকালো গালা ডিনারের মাধ্যমে। উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান।