স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের পূবাইলে সাবেক স্ত্রী আসমা আক্তারকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকালে হায়দরাবাদ এলাকার মাওরারটেকে ঢাকা-জয়দেবপুর রেললাইনের পাশে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় লোকজন রফিকুলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
নিহত আসমা আক্তার নওগাঁর মান্দা থানার মৌনম এলাকার আবুল হোসেনের মেয়ে। তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে গাজীপুর মহানগরের খাইলকৈর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করতেন। অভিযুক্ত রফিকুল একই উপজেলার ডাংগা গ্রামের মৃত সিরাজ মণ্ডলের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে আসমার সঙ্গে রফিকুলের বিয়ে হয়। রফিকুল প্রবাসে থাকার সময় স্ত্রীকে টাকা পাঠাতেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পর বিদেশে উপার্জিত অর্থ নিয়ে দুইজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রায় ২০ দিন আগে রফিকুলকে তালাক দেন আসমা। এর তিন দিন আগে লোকজন নিয়ে আসমাকে নিজের সঙ্গে নিতে গেলেও তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুরে মুঠোফোনে আসমাকে হায়দরাবাদ রেললাইন এলাকায় আসতে বলেন রফিকুল। সেখানে পৌঁছানোর পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আসমার গলায় আঘাত করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আটকের পর রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার সঙ্গে সে (স্ত্রী আসমা আক্তার) বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাই মেরে ফেলেছি। সে (আমার বউ) অন্যের সঙ্গে সংসার করবে, এটা আমি জীবনেও মেনে নিতে পারব না। আমিও মরে যাব। রফিকুলের ভাষ্য, প্রবাসে উপার্জন করা প্রায় ২০ লাখ টাকা তিনি স্ত্রীকে দিয়েছিলেন। কিন্তু আসমা তার সঙ্গে সংসার করতে রাজি ছিলেন না এবং টাকাও ফেরত দিচ্ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি। এ নিয়ে বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে রফিকুল পুলিশকে জানিয়েছেন।
পূবাইল থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে রফিকুলকে হেফাজতে নেওয়ার পর ঘটনাস্থল রেলওয়ের সীমানায় হওয়ায় তাকে টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নূর আলম জানান, সাবেক স্বামীর হাতে আসমা নিহত হয়েছেন। হত্যার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় রফিকুলকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আসমার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।