স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি হত্যার বিচার ও প্রতিনিয়ত ভুল চিকিৎসায় মানবিক ক্ষতি সাধন করায় স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ শনিবার কাপাসিয়া শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ চত্বরে এ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টি এস ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারক লিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংগঠন। ৪৪ টি সামাজিক সংগঠনের সমন্বয়কারি বাবু শেখ জানান, উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নে মডিউল কমিউনিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে চরম অব্যস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, গত ২১ জুলাই সাহিদা নামের এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করে ছেলে সন্তান জন্ম হয়। গত ৩ আগষ্ট ভোরে প্রসূতির মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, এছাড়াও একই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে বর্তমানে মিরপুরের একটি হাসপতালে সিসিওতে ভর্তি রয়েছে এক রোগি। মানবন্ধনে অংশগ্রহনকারি তারুণ্যের আলো সামাজিক সংঘের সভাপতি মাহমুদুল হাসান নাঈম জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ প্রাইভেট হাসপাতালে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমরা কোনো সেবা পাচ্ছিনা। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের যে সেবা গ্রহন করার কথা সেই সেবা আমরা পাচ্ছিনা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিশ্চিত করতে হলে সাত দিনই ২৪ ঘন্টা গাইনি ডাক্তার থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে তা থাকে না। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে একটা পরীক্ষা করতে গেলে লোক সংকটের কারণে পরীক্ষা করানো সম্ভব হয়না।
তিনি প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন, মানুষের জন্ম নিয়ে প্রসূতি মায়েদের কষ্ট দিবেন না। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনি মিনি খেলবেন না।
উপজেলার রানীগজ্ঞ গ্রামের আরিফ ইসলাম জানান, গত ৪ জুলাই মডিউল কমিউনিটি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় আমার স্ত্রী মারা গেছেন। আমি এর বিচার চাই।
মডিউল কমিউনিটি হাসপাতালে ম্যানেজার নারায়ন সাহা জানান, ওই রোগি সিজারের পরে ডেসিং এর জন্য এসেছিলেন। ঘুমের মাঝে স্ট্রোক করে মারা যান তিনি। তিনি জানান, ২১ জুলাই সিজারে বাচ্চা সন্তান জন্ম হয়। ২৪ জুলাই হাসপাতাল থেকে বাসায় যায়। ৩০ জুলাই হাসাপাতালে ডেস্রিং করতে এসে ভর্তি হয়। ৩ আগষ্ট ভোরে হাসপাতালে স্ট্রোকে মারা গেছে। কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (টিএস) ডা. মামুনুর রহমানকে সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে প্রাইভেট হাসপতালে রোগি চাপ বেশি এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার ও করনসালটেন্ট সংকট রয়েছে।
ডা. মামুনুর রহমান জানান, কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫ জন ডাক্তার গাজীপুর কারাগারে, এবং ২ জন ডেঙ্গু রোগির ওয়ার্ডে জন্য অন্য একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত। এখানে ৬ জন ডাক্তারের পোস্ট খালি রয়েছে। আপাতত অ্যানেস্থেসিয়া, অর্থপেডিক ও নাক গলার ডাক্তার নেই।
রায়েদ মডিউল কমিউনিটি হাসপাতালের চিকিৎসক মো. শামসুল হুদা জানান, সিজারের এগারো দিন পরে স্ট্রোকে ওই রোগি মারা গেছেন।
রায়েদ মডিউল কমিউনিটি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. রুহুল আমিন বলেন, ভুল চিকিৎসায় রোগি মারা যায়নি। রোগি সেজারের পর সুস্থ হয়ে নিজ বাড়ীতে একটি অনুষ্ঠানও করেছে। করোনাকালীন করোনা রোগির চিকিসার জন্য মডিউল কমিউনিটি হাসপাতালটি ব্যবহার হয়েছিলো বলে তিনি জানান।