স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার কারণে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের আট থানায় ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সব মামলায় নামীয় পাঁচ শতাধিক ও অজ্ঞাতসহ ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগরের থানাগুলোতে দায়ের হওয়া ৩০ মামলায় ১৮০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। নাশকতা এড়াতে আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গাজীপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাপ ছড়ায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) থেকে। তবে সেই আন্দোলন সহিংসতায় রুপ নেয় শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরের পর থেকে। সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ঘটে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানাধীন শিববাড়ী, কেয়ামত সড়ক; বাসন থানাধীন ভোগরা, চান্দনা চৌরাস্তা, তেলিপাড়া; গাছা থানাধীন কুনিয়া, বোর্ড বাজার, বড়বাড়ী; টঙ্গী পশ্চিম ও পূর্ব থানা ও কোনাবাড়ী থানাধীন কোনাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড, ফ্লাইওভারের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে। তবে কাশিমপুর থানা ও জেলার উপজেলায় তেমন সহিংসতা হয়নি।
সহিংসতার পর থেকে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতিদিন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার এড়াতে বাংলাদেশ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে থাকা বিভিন্ন ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থীরা চলে যাচ্ছে।
এদিকে, গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) থেকে গাজীপুরের সব শিল্পকারখানা বন্ধ ছিল। বুধবার (২৪ জুলাই) থেকে সব কারখানা খুলছে। তবে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকা এবং শিপমেন্ট বিপর্যয়ে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শহরে মোতায়েন করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) সারোয়ার আলম জানান, গাজীপুরে পোশাক কারখানাসহ মোট ২২২৫টি বিভিন্ন কারখানা রয়েছে। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে ইতোমধ্যে সকল প্রতিষ্ঠান বুধবার (২৪ জুলাই) থেকে খোলা হয়েছে। কারখানা মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আমাদের ৫ শতাধিক সদস্যসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে দু’একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া সকল কারখান খোলা রয়েছে। সর্বত্র শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। কারখানার সকালেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, কর্মরত শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নির্বিঘ্নে নির্ভয়ে কাজ করুন। কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নিবেন না। আমরা আপনাদের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত আছি। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং আমাদের শিল্প পুলিশের উধার্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সদর দপ্তর থেকে এসব কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করছেন।