স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ওবায়দুর রহমানকে রাজশাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের (কারা-১ শাখা) উপসচিব তাহনিয়া চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই বদলির আদেশ দেওয়া হয়। যুব মহিলা লীগের সাবেক নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় অপরাধী চক্র গড়ে তোলে। এ ঘটনার জেরে ওই কারাগারে ছয় কারারক্ষীকে বিভিন্ন কারাগারে বদলি করা হয়।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ওবায়দুর রহমান দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় বন্দি নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ উঠে। এসব বিষয়গুলো পাপিয়াকাণ্ডের পরই জানাজানি হচ্ছে। এরপর জেল সুপার ওবায়দুর রহমানকে এ কারাগার থেকে বদলি করা হয়েছে। এর আগে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ছয়জন কারারক্ষীকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। বদলি করা কারারক্ষীদের মধ্যে কারারক্ষী আলেয়া চৌধুরীকে লক্ষ্মীপুর, শাম্মী আক্তারকে সুনামগঞ্জ, মোছা. সোহেলা আক্তারকে ঝালকাঠি, সেলিনা আক্তারকে শেরপুর, ঝর্ণা আক্তারকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও লাকী আক্তারকে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের তাৎক্ষণিক কর্মমুক্তির আদেশে কারা মহাপরিদর্শকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান। কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ওবায়দুর রহমান তার বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পাপিয়াকাণ্ডের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি কারাগারে এসে পৌঁছায়। বিকেল ৬টা পর্যন্ত তদন্ত কমিটি কারাগারে এ বিষয়ে তদন্ত করছে।
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রুনা লায়লাকে (জামিন প্রাপ্ত) নির্যাতনের অভিযোগ উঠে যুব মহিলা লীগের সাবেক নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান, নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন ও কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার আসাদুল রহমান।