August 9, 2026, 12:18 am

কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে : নাহিদ ইসলাম

Reporter Name
  • আপডেট Friday, August 7, 2026
  • 16 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি কাঠামোগত সংস্কার না করা হয়, এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে। তাদের ভেতর সেই প্রবণতা আছে। এই সরকারকে বলব, দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল দাবি যদি তারা বাস্তবায়ন না করে, তাদের পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্ট্রো রোডে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে এক চিত্র প্রদর্শনীতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এটা আগেই বলেছি, এই কাঠামো, এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন হবে না যদি গোড়ায় আমরা পরিবর্তন না করি। মৌলিক পরিবর্তন না করি। এটা কোনো ব্যক্তি, প্রধানের, সরকার প্রধানের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় না। এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আজকে আমরা ৭ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর উদযাপন করলাম। এ বছর সেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে একটি আয়োজন করা হয়েছে।
নাহিদ বলেন, আমরা আজকের এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখেছি। যেটা ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ এবং সত্যিকার অর্থেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান শেষ হয়নি, পুরো চিত্র প্রদর্শনীতে সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রকল্প ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ঘাত-প্রতিঘাত, স্বৈরতন্ত্র, বাকশাল, ফ্যাসিবাদ সবকিছুকে অতিক্রম করে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নতুন মুক্তি এনে দিল এই দেশের মানুষকে, জনগণকে, আমরা আলোকচিত্রের মাধ্যমে সেই জিনিসটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা এই চিত্র প্রদর্শনী থেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কার এবং যেটা আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছি। সেই ‘হ্যাঁ’ ভোট আমাদের থেকে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হলো, কেড়ে নিল এই সরকার। কিন্তু আমাদের যে অঙ্গীকার, জুলাইয়ের অঙ্গীকার হচ্ছে সংবিধান সংস্কার করা, রাষ্ট্র কাঠামোর আমল সংস্কার করা। তো সেই লড়াইটা এখন আসলে রয়ে গিয়েছে। আমাদের আজকের চিত্র প্রদর্শনীর বার্তাটা হচ্ছে এটাই যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আমরা যদি ধরে রাখতে চাই, তাহলে তার যে আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র কাঠামোর আমল সংস্কারের সেই লড়াইটা আমরা এখনো চালিয়ে যাচ্ছি।বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, এই সরকার নির্বাচিত হয়েছে। তারা দুইটা ভোটে অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু একটা ভোটের ফলাফল তারা মানে নাই। আপনারা জানেন, গণভোটের গণরায়ের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
তিনি বলেন, এবারে যে সরকারিভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন হলো, আপনারা দেখেছেন সারাদেশে সেটার কী পরিস্থিতি। ইতিহাস বিকৃতি থেকে শুরু করে দলীয়করণ এবং সবকিছুই সেখানে আপনারা দেখবেন। কোনো ধরনের সার্বজনীন বক্তব্য নাই, অন্তর্ভুক্তিমূলক যে বাংলাদেশ, জুলাই যে সকলের, সেই বার্তাটা তারা দিচ্ছে না। তারা সবকিছুকে দলীয়করণ করছে। স্থানীয় সরকার প্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পদ-পদবী যেরকম দলীয়করণ করছে, একইভাবে ইতিহাসকে তারা দলীয়করণ করার চেষ্টা করছে। যেভাবে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয়করণ করার চেষ্টা করেছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর