দেওয়ান মো. মনিরুজ্জামান, বিশেষ প্রতিবেদক :: বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান খায়রুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আইনজীবী দম্পতি জাহিদুল হক খান ও রওনক জাহান কানাডায় উচ্চশিক্ষার জন্য বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের সহায়তা নেন। প্রতিষ্ঠানটি তাঁদের শিক্ষার্থী ভিসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা করে মোট ৩৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ভিসার ব্যবস্থা করা হয়নি এবং পরবর্তীতে অর্থ ফেরতও দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে জাহিদুল-রওনক দম্পতিসহ ১৮জন ভুক্তভোগীর গত ৫ মে ২০২৫ইং তারিখে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, খায়রুল বাশার ও তাঁর পরিবার ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে একটি প্রতারক চক্র গড়ে তোলে। কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে ভর্তি, স্কলারশিপ ও ভিসার প্রক্রিয়া করে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে তারা। সিআইডির দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ করা হয়, ১৪১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এই মামলার তদন্ত করছেন গুলশান থানার এসআই রেজাউল করিম এবং সিআইডি।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এ পর্যন্ত অন্তত ৪৪৮ জন ভুক্তভোগী প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় বাশারের বিরুদ্ধে শতাধিক ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের অক্টোবর থেকে বাশারের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়েছে এবং তাঁর বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা ভুক্তভোগী আমির হোসেন জানান, তিনি কানাডায় যাওয়ার আশায় বিএসবিকে ১৩ লাখ টাকা দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে ভিসা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা না হওয়ায় তিনি প্রতারিত হয়েছেন বলে মনে করছেন। জমি বিক্রি করে টাকা জোগাড় করেছিলেন বলে জানান তিনি। গত ২৮ ডিসেম্বর তিনি আরও ২২ জন মিলে বাশারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলা ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
আরেক ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, প্রতারণার শিকার হয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে গুলশান থানায় মামলা করে। তাঁর কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল কানাডার শিক্ষার্থী ভিসার ব্যবস্থা করার কথা বলে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এ বিষয়ে বিএসবির গ্রেপ্তার হওয়া মহাব্যবস্থাপক আবু জাহিদের আইনজীবী জানান, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছে এবং অনেক শিক্ষার্থীকে বিদেশে পাঠিয়েছে। যারা বিদেশ যেতে পারেননি, তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে তিনি জানান
এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, খায়রুল বাশারের বিরুদ্ধে তাঁর থানায় ৯টি মামলা রয়েছে এবং তাঁকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হবে।