May 15, 2026, 7:44 pm

রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কাল

Reporter Name
  • আপডেট Tuesday, June 20, 2023
  • 134 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কাল। তার আগে উৎসবমুখর পরিবেশে সোমবার রাতে শেষ হয়েছে নির্বাচনি প্রচার।

এদিন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা নাওয়া-খাওয়া ভুলে শেষ মুহূর্তের প্রচারে নামেন। সিলেটে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে যান প্রার্থীরা। এদিকে সিলেটে ১৩২টি ও রাজশাহীতে ১৪৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ব্যুরোর পাঠানো খবর-

সিলেট : সোমবার দিনভর সিলেটে বৃষ্টি হলেও থেমে থাকেননি প্রার্থীরা। শেষ মুহূর্তের প্রচারে প্রার্থীরা পথসভা, মতবিনিময় ও গণসংযোগ করেছেন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী রাতে নগরীর রেজিস্ট্রি মাঠে শেষ নির্বাচনি জনসভা করেন। জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুলের শেষ নির্বাচনি জনসভা হয় নগরীর রিকাবীবাজার পয়েন্টে। এর আগে বিকালে নগরীর দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বরে লাঙ্গলের সমর্থনে মিছিল করে জাতীয় পার্টি। এ সময় বাবুল বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে লাঙ্গলের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। এছাড়া নিজ নিজ ওয়ার্ডে শেষ জনসভা করেন কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। তবে বৃষ্টির কারণে বেশি বিড়ম্বনার শিকার হন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

নারী প্রার্থীদের তিনটি ওয়ার্ড থাকায় অনেক স্থানে শেষ মুহূর্তে সশরীরে হাজির হতে পারেননি প্রার্থীরা। তাদের পক্ষে প্রচারণায় নামেন কর্মী-সমর্থক ও স্বজনরা। এবার সিলেটে ৩৬৭ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে রয়েছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে লড়ছেন ৮ জন। তারা হলেন-আওয়ামী লীগের আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (নৌকা), জাতীয় পার্টির নজরুল ইসলাম বাবুল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), জাকের পার্টির মো. জহিরুল আলম (গোলাপ ফুল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ জাহান মিয়া (বাস), মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন (ক্রিকেট ব্যাট) ও মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা (হরিণ)। তবে নির্বাচন বর্জন করেছেন মাহমুদুল হাসান। নগরীর ৫৬টি কাউন্সিলর পদে ৩৬০ জন প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার অভিযোগে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

এ সিটিতে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৩, নারী ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৪ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬ জন। সিসিক নির্বাচনে ১৯০টি কেন্দ্রের ১ হাজার ৩৬৭টি ভোটকক্ষে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে ১৯০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ৫৮টি কেন্দ্র সাধারণ (ঝুঁকিমুক্ত) বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসান জানান, সোমবার রাত ১২টার পর থেকে সিসিকের ৪২টি ওয়ার্ডে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ৪২টি টিম মাঠে থাকবে। এর বাহিরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ১০টি টিম থাকবে। প্রতিটি টিমের সঙ্গে ১ প্লাটুন বিজিবি থাকবে।

রাজশাহী : এ সিটিতে প্রচার শেষ হয়েছে সোমবার রাত ৮টায়। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন জয়ের ব্যাপারে অনেকটাই নির্ভার। চার মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুরশিদ আলম নির্বাচন বর্জন করেছেন। তবে প্রচারে শেষদিন পর্যন্ত লিটনসহ জাতীয় পার্টির সাইফুল ইসলাম স্বপন ও জাকের পার্টির লতিফ আনোয়ারকে কমবেশি সক্রিয় দেখা গেছে। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও প্রচারে একটুও অবহেলা করেননি লিটন।

জানা গেছে, এবারের নির্র্বাচনে প্রচারে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছেন মেয়র প্রার্থী লিটন। ১৮ এপ্রিল দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই লিটন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ৭৫টির বেশি মতবিনিময় সভা করেন। ২ জুন আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর থেকে সোমবার বিকাল পর্যন্ত ১৮৩টি প্রচার মিছিল পথসভা ও মতবিনিময় সভা করেন। নগরীজুড়ে ৭০টি মাইকে নৌকা প্রতীকের নিবিড় প্রচারণা চালানো হয়েছে। লিটনের প্রচারের একক আধিপত্যে অপর দুই মেয়র প্রার্থীর প্রচার অনেকটা ম্লান ছিল।

এদিকে সাইফুল ইসলাম স্বপনের প্রচারণা ছিল অনেকটা সীমিত। এই মেয়র প্রার্থীর পক্ষে দুটি মাইক ব্যবহার করা হয়েছে নগরীতে। স্বপন ৫০টির বেশি পয়েন্টে নির্বাচনি পথসভা ও গণসংযোগ করেছেন। নগরীর অনেক এলাকায় স্বপনের লাঙ্গলের পোস্টার খুব বেশি চোখে পড়েনি। অনেক ভোটার জানিয়েছেন লাঙ্গলের পোস্টার কোথাও কোথাও থাকলেও নৌকার পোস্টারের আধিক্যের কারণে তা দৃষ্টিগোচর হয়নি। একই সঙ্গে জাকের পার্টি ৩ দিন আগে প্রচারে তিনটি মাইক ব্যবহার শুরু করেন। গোলাপফুলের এসব মাইকের প্রচার নগরীর সাহেব বাজারসহ আশেপাশের এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাকের পার্টির পোস্টার দেখা যায়নি নগরীর অধিকাংশ এলাকায়। যদিও প্রার্থী লতিফ আনোয়ারের দাবি তারা সাধ্যমতো প্রচার চালিয়েছেন।

রাজশাহী সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রফিকুল আলম জানান, সিটির ১৫৫টি কেন্দ্রে তিন স্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৪ হাজার জনবল কাজ করবে নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ নিশ্চিতে। এর মধ্যে সাড়ে তিন হাজারের বেশি পুলিশ থাকবে বিভিন্ন কেন্দ্রে। কেন্দ্রের বাহিরে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে ২৫০ জন র‌্যাব সদস্য মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার। এছাড়া ভোটের মাঠে ৭ প্লাটুন বিজিবিও থাকবে।

জানা গেছে, এবার রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৫টি। এসব কেন্দ্রের ১ হাজার ১৫৩টি বুথে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট হবে। এরমধ্যে ১৪৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে কিছু কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

এ সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার ১৮৫ জন ও নারী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৭২ জন। নির্বাচনে ২৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১১২ জন কাউন্সিলর প্রার্থী ও ১০টি সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৬ জন নারী কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর