May 25, 2026, 8:03 am

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনও জরুরি অবস্থা ঘোষণার মত পরিস্থিতি হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, July 22, 2023
  • 98 জন দেখেছে

দৈনিক বিজয়বাংলা নিউজ ডেস্ক :: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক  জানিয়েছেন, রাজধানীতে ডেঙ্গু  স্থিতিশীল থাকলেও ঢাকার বাহিরে রোগী বাড়ছে। তবে এখনও হেলথ ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কারণ আমাদের দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে এখনো ডেঙ্গু রোগীর পরিমাণ সেভাবে বাড়েনি। এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ডেঙ্গু রোগী বাড়ুক সেটা আমরা চাই না। আজ শনিবার রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, দেশে গত কিছুদিন যাবৎ আবারও ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রভাব বাড়ছে। বর্তমানে দেশের সবকয়টি হাসপাতালে প্রায় ৬ হাজারের একটু বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। যার মধ্যে ঢাকাতেই আছে তিন হাজার রোগী এবং ঢাকার বাহিরে আছে আড়াই হাজার। ঢাকা শহরে বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর পরিমাণ স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। কিন্তু ঢাকার বাহিরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে মশার কামড় থেকে মুক্ত থাকতে হবে। আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাসা বাড়ির ছাদ, আঙিনায় যেন পানি জমে না থাকে, সেই খেয়াল রাখতে হবে।তাই এবিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবার সহযোগিতায় পেলে আমরা দ্রুতই এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবো।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি হাসপাতাল এবং মুগদা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। এখানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। আমাদের দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশ বাড়তির দিকে। বর্তমানে ১৪০টি দেশে ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের আশেপাশের দেশগুলোতে ৫০ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী। আমাদের এখানে আরও বাড়ুক, সেটা আমরা চাই না।

মন্ত্রী  বলেন, আমরা স্বাস্থ্য অধিদফতর ডেঙ্গু মোকাবেলায় যথেষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছি। পাশাপাশি দুই সিটি করপোরেশন ডেঙ্গু প্রতিরোধে যথেষ্ট কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা শহর সহ সারাদেশে সাড়ে ২৮ হাজার ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা শহরে ডেঙ্গু রোগের সংখ্যা সাড়ে ১৭ হাজার। আর ঢাকার বাইরে অন্য জেলাগুলোতে সাড়ে দশ হাজারের একটু বেশি। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫৬ জন। যার মধ্যে ঢাকাতেই মৃত্যু বরন করেছে ১২২ জন। ঢাকার বাহিরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জন। ঢাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যেমন বেশি, সে তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। আমাদের দেশে বর্তমানে ৬০টি জেলায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে।

জাহিদ মালেক বলেন, আজকে আমরা বিভিন্ন হাসপাতালের রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি তারা কর্মস্থল থেকে বেশি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি রোগীরা বলছে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় অলিগলিতে সিটি কর্পোরেশন মশার স্প্রে কম করছে, সেটা বাড়ানোর প্রয়োজন আছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অফিস এবং মিল কারখানাগুলোতে মশার স্প্রে তেমন ভাবে হচ্ছে না। যে কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ সবের ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন তাদের বলব, আপনারা এ বিষয়ে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেন। সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব না আপনার বাসা বা অফিসে গিয়ে স্প্রে করা। তাই এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, যে গ্রুপটা বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের বয়স সীমা হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ বছর। আর এদের বেশিরভাগই কর্মজীবী মানুষ। একই সঙ্গে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পুরুষ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ পুরুষ। আর ৩৭ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী হচ্ছে মহিলারা।

মুগদা হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় মুগদা হাসপাতাল যথেষ্ট কাজ করছে। এখানে রোগীর সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে মুগদা হাসপাতালে প্রায় ৫০০ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। মুগদা হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ১০০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থাকেন। মুগদা হাসপাতাল এ পর্যন্ত ৫ হাজার ডেঙ্গু রোগীকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার রোগীকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় আরও  উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. নিয়াতুজ্জামান প্রমুখ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর