May 15, 2026, 7:18 pm

গাজীপুর ডিসির সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টায় গ্রেফতার ৩

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, April 4, 2026
  • 42 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:: গাজীপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ৬৫ কোটি টাকা ঋণের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দুজন ও ঢাকার গুলিস্থান থেকে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রতারণার ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় সহকারী গোলাম রসুল পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেছেন। এ মামলায় গ্রেফতার তিনজন হলো-লক্ষীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার পূর্ব দেউলি গ্রামের মৃত তোফায়েল আহমেদের ছেলে মো. মোর্শেদ আলম (৪৫), কুমিল্লার মুরাদনগর থানার মো. ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) ও বগুড়া সদরের মালতীনগরের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. সাব্বির আলী (৪৫)। মামলার অপর দুই আসামি হলেন-রংপুরের কাউনিয়া থানার আব্দুল মালেকের ছেলে মো. মাহিদুল মাইদুল ইসলাম (৪০) ও ভোলার বোরহান উদ্দিন থানার কাচিয়া এলাকার মো. আমির হোসেনের ছেলে মো. মাজহার উদ্দিন মাজেদ (৩০)।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে মোর্শেদ আলম ও নজরুল ইসলাম ঢুকে নিজেদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরিচয় দিয়ে নাম-ঠিকানা ও স্বাক্ষরবিহীন দুই কপি ‘সম্মতিপত্র’ উপস্থাপন করে। যাতে লেখা ছিল ‘সে আপনার প্রতিষ্ঠান হতে অদ্য ২৮/০৩/২০২৬ইং তারিখে তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ৬৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করিবে এবং যাহার সার্ভিস চার্জ ১০ কোটি টাকা, মোট ৭৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করিবে। যাহার বিপরীতে ১৮ মাসে কাজের মাধ্যমে সর্বমোট ১৫০ কোটি টাকা প্রদান করিবে। তাহার সব দ্বায়দায়িত্ব গ্রহণ করিতে সম্মতি প্রদান করিলাম। উল্লেখ্য যে, ঋণ চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের সময় যা ঋণ চুক্তিপত্রের মেয়াদের সময়ের মধ্যে আপনার প্রতিষ্ঠানের সুবিধা মতো ক্যাশ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করতে সে বাধ্য থাকিবে।
আমি আরও প্রত্যয়ন করছি যে, ঋণ চুক্তিপত্রে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সে সমুদয় অর্থ পরিশোধের ব্যাপারে ঋণ প্রদানকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করিবে এবং আমি প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করিব’।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসককে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তারা নাম-ঠিকানা ও স্বাক্ষরবিহীন দুই কপি সম্মতিপত্রে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন জেলা প্রশাসক প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে মোর্শেদ আলম ও নজরুল ইসলামকে আটক করেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায়, জনৈক সাব্বির আলী, মাহিদুল মাইদুল ইসলাম ও মাজহার উদ্দিন মাজেদসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন তাদের পাঠিয়েছে এবং তারা একত্রে প্রতারণার উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য এসেছিল।
ঘটনার পর পুলিশকে সংবাদ দিলে মহানগর গোয়েন্দা শাখা, ডিবি (উত্তর)’র একটি টিম এসে আসামি মোর্শেদ আলম ও নজরুল ইসলামকে আটক করে। পরে তাদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে আরেক প্রতারক সাব্বির আলীকে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদের নিয়ে ঢাকা মহানগরের কদমতলী থানাধীন নূরপুরে আপন গাজী প্যালেস ভবনের ফ্ল্যাটে মাহিদুল মাইদুল ইসলামের বাসায় অভিযান চালায়। বাসায় তল্লাশি করে স্বাক্ষরযুক্ত ব্ল্যাংক চেক ও লিখিত স্ট্যাম্প জব্দ করে।
সদর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিরীহ মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। বিষয়টি মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর