May 25, 2026, 11:00 pm

গাজীপুরে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে

Reporter Name
  • আপডেট Monday, July 17, 2023
  • 157 জন দেখেছে

মো: মুর্শিকুল আলম, গাজীপুর :: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে। এতে নাগরিকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মশার কয়েল, অ্যারোসল, বৈদ্যুতিক ব্যাট ব্যবহার করেও মশার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। মশার উপদ্রবে রাস্তা-ঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বিভিন্ন শিল্প-কলকারখানায় এইসব মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে এর ফলে আতঙ্কে রয়েছে নগরবাসী। সিটির নাগরিকরা মশার হাত থেকে রক্ষা পেতে জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আশার আহ্বান জানান।

জানা যায়, গাজীপুরের কর্মব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ টঙ্গীতে মশক নিধন কার্যক্রম মুখথুবড়ে পড়ে আছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার কারণে এবং বেহাল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ডোবা, নালা-নর্দমার কচুরিপানা ও ময়লা পরিষ্কার না করায় প্রায় সর্বত্রই এখন ডেঙ্গু মশার রাজত্ব ও ডেঙ্গু মশা উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, মশা নিধনে সমন্বিত উদ্যোগ নেই। সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় ময়লা আবর্জনায় ভর্তি ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এগুলোতে বাসা বেঁধেছে ডেঙ্গু মশা। নাগরিকরা অসচেতনতাও এর জন্য কম দায়ী নয়। নিজ ঘর নিয়মিত পরিচ্ছন্ন না রাখা, বিশেষ করে স্টোররুমে এলোমেলো করে জিনিসপত্র ফেলে রাখা, এখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা এসব বদ-অভ্যাস পাল্টাচ্ছে না সেভাবে। ফলে বছরজুড়ে ডেঙ্গু মশার আতঙ্কে থাকে এলাকাবাসী। অথচ মশা নিধন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অন্যতম একটি কাজ। এ খাতে সরকারের বরাদ্দও কম নয়। ভাইরাসের বাহক মশা নিধনে চোখে পড়ার মতো কার্যকর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তারা।

কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, এখন মূলত কিউলেক্স মশার উপদ্রব চলছে। স্ত্রী কিউলেক্স মশার মাধ্যমে অসুস্থ ব্যক্তির শরীর থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ফাইলেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। ‘গাদ’ নামে পরিচিত এই রোগের কারণে হাত-পা ফুলে যায়, বারবার জ্বর হয়। এছাড়াও ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে বর্ষা মৌসুমে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে এডিস মশার উপদ্রব। প্রতি বছর এডিস মশার কারণে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। 

টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যা হলেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও ভেতরে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা ভনভন করছে। কয়েলের ধোঁয়ায় রোগীদের কষ্ট হওয়ায় কয়েলও জ্বালানো যাচ্ছে না। ফলে অসুস্থ রোগী ও তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনরাও মশার যন্ত্রণায় ছটফট করছেন।

মাছিমপুর এলাকার বাসিন্দারা বলেন, এটা মশার এলাকা। রাতে মশা মনে হয় যুদ্ধ ঘোষণা করে। বিকাল থেকেই কয়েল জ্বালাতে হয়। বস্তির সর্বত্রই বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ও ময়লা আবর্জনা ফেলা হয়। এতে এসব এলাকা মশার প্রজনন কেন্দ্র ও আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।

কলেজ গেট এলাকার এক বাসিন্দারা জানান, মহাসড়কসহ শাখা সড়কগুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ও সোয়ারেজের পানি। সন্ধ্যার হলেই মশার উপদ্রবে রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাও মুশকিল। ছেলেমেয়েরা এখন পড়াশোনা করে খাটে মশারির ভেতরে। অন্তত দায়সারা হলেও নগরভবনের পক্ষ থেকে মশক নিধন কার্যক্রম প্রত্যাশা করছি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, সিটির প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের অধীন পরিচ্ছন্ন কর্মীরা কাজ করে। আমরা বেতন দেই। তারা সহযোগিতা চাইলে আমরা অবশ্যই করব।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমানে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, গাদসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। আমরা হাসপাতালের আঙিনা নিয়মিত পরিষ্কার করে থাকি। তবুও মশার উপদ্রব কমছে না। হাসপাতালে মশার ওষুধ স্প্রে করার জন্য সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় পুরুষ ও মহিলা এবং সপ্তমতলায় শিশু ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে। মশারি ছাড়া যাতে কোনো রোগী না থাকে সেজন্য নার্সদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত ১৫ দিনে এ হাসপাতালে ৫৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সোমবার পর্যন্ত ৩৭ জন রোগী এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে ঢামেকে প্রেরণ করা হয়েছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এএসএম শফিউল আজম বলেন, মশার উপদ্রবের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মশক নিধনের জন্য জরুরিভিত্তিতে ওষুধ কেনা হয়েছে। ইতোমধ্যে মশা নিধন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। আশা করছি মশার উপদ্রব দ্রুত কমে আসবে। মশক নিধন কার্যক্রমে বাজেটে ঘাটতি রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত বাজেট এবং ওষুধ রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর