কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:: কুষ্টিয়া শহরে বাড়িতে একা থাকা এক বৃদ্ধাকে শয়তানের নিশ্বাস নামে পরিচিত চেতনানাশক ছিটিয়ে অচেতন করে ১০ লাখ টাকা ও সোনা লুটের ঘটনায় দুই নারীসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মেহেরপুরের গাংনী ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় লুট হওয়া ৪৫ দশমিক ৭৮ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য সাত লাখ ৮৫ হাজার টাকা। আজ রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশ।
এসময় পুলিশ জানায়, গত ১৬ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই দিন দুপুর ৩টা ১৩ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়িতে একা থাকা বৃদ্ধার ওপর চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে তাকে অচেতন করা হয়। পরে ঘরে থাকা নগদ ১০ লাখ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে ওয়াসিফ বিল্লাহ কুষ্টিয়া সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান কুষ্টিয়া সদর থানার এসআই (নিরস্ত্র) বাদশাহ মিয়া। তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মেহেরপুরের গাংনী থানার নওদা হোগলবাড়িয়া (শুকুরকান্দি) গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি নাঈম হোসেন, পারভীনা খাতুন ও ইদাদুলসহ তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারিকুল ইসলাম ও মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে একই দিন বিকেল ৫টার দিকে ইদাদুলের (৪৩) দেখানো মতে রেহা খাতুনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে চুরির ঘটনায় লুট হওয়া সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অলংকারের মধ্যে রয়েছে একটি সোনার গলার হার, এক জোড়া কানের দুল, এক জোড়া ঝুমকা, এক জোড়া কানের বালা, এক জোড়া কানের টানা, দুটি স্বর্ণের আংটি ও একটি গলার চেইন। এসব অলংকারের মোট ওজন ৪৫ দশমিক ৭৮ গ্রাম। যার বাজারমূল্য ৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে। শয়তানের নিশ্বাস নামে পরিচিত চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে বৃদ্ধাকে অচেতন করার পর সোনা লুট করা হয়েছিল।