মো: জাফর আলী:: শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে কোনো ধরনের সহিংসতা, ভাঙচুর, নাশকতা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বহিরাগতদের মাধ্যমে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকে গাজীপুরের টঙ্গীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেন তাঁরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক বশির উদ্দিনের নেতৃত্বে শত শত নেতাকর্মী টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানা-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান ও সতর্ক মহড়া দেন। পরে তাঁরা টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সম্ভাব্য নাশকতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে তাঁরা জানতে পেরেছেন, তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের চলমান অসন্তোষকে পুঁজি করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অর্থ ও জনবল সরবরাহ করছে। শ্রমিকের ছদ্মবেশে বহিরাগতরা শিল্পাঞ্চলে প্রবেশ করে কারখানা ভাঙচুর, নৈরাজ্য সৃষ্টি ও মহাসড়ক অবরোধের ষড়যন্ত্র করছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনতার উদ্দেশে অধ্যাপক বশির উদ্দিন বলেন, “শ্রমিকরা আমাদের ভাই-বোন, তাঁরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। শ্রমিকদের যেকোনো ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আমাদের দল বিএনপি এবং বর্তমান সরকার সব সময় সহানুভূতিশীল ও সোচ্চার। আপনারা জানেন, ইতিমধ্যে শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ শ্রমিকদের সিংহভাগই শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিতে চান। কিন্তু চক্রান্ত থেমে নেই।”
তিনি আরও বলেন, “জনবিচ্ছিন্ন ও পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ এখন শেষ অস্ত্র হিসেবে শিল্প খাতকে বেছে নিয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে এবং জাতীয় জীবনে অস্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তারা পর্দার আড়াল থেকে অর্থ ঢালছে, ক্যাডারদের উসকে দিচ্ছে। শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে পেছনের দরজা দিয়ে ফায়দা লোটার এই অপচেষ্টা গাজীপুরের টঙ্গীর মাটিতে সফল হতে দেওয়া হবে না।”
সাধারণ শ্রমিকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বশির উদ্দিন আরও বলেন, “আমরা শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনের বিপক্ষে নই। তবে আন্দোলনের নামে যারা জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট করবে, কারখানায় আগুন দেবে কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে, তাদের চিহ্নিত করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। জিয়াউর রহমানের সৈনিকেরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ ধরনের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রাজপথেই কঠোরভাবে প্রতিহত করবে, ইনশাআল্লাহ। কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সাধারণ মানুষের পাশে আছি।”
সকাল থেকে চেরাগ আলী ও কলেজগেট এলাকাসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের অবস্থানের কারণে এলাকায় বাড়তি সতর্কতা লক্ষ করা যায়। কর্মসূচির আয়োজকদের দাবি, তাঁদের এ অবস্থানের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তাঁরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন। অবস্থান কর্মসূচিতে গাজীপুর মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক সাজেদুল ইসলাম, টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।