নিজস্ব প্রতিবেদক:: গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে নারী সহকর্মীর মাধ্যমে হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ব্যবসায়ীকে বাসায় ডেকে জিম্মি, মারধর ও অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর মোটরসাইকেল, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. সোহেল মিয়া (৪২) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত একটি পালসার মোটরসাইকেল, একটি স্মার্টফোন ও তিনটি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। গত ৭ নভেম্বর চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে আসামি করে পূবাইল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী গাজী মুহাম্মদ আরিফ ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার রেইনবো কমার্শিয়াল অ্যান্ড এসএস লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা। অভিযুক্তদের মধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌস দোলা (২৮) ও সোনিয়া রহমান স্বর্ণা (৩০) প্রায় দুই মাস আগে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। পরে তাঁরা চাকরি ছেড়ে দেন। এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, অন্য প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাদীকে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার মাজুখান এলাকার ফাহিমা নামের এক নারীর ভাড়া বাসায় ডেকে নেওয়া হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওই বাসায় চা-নাশতা খাওয়ার পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সোহেল মিয়া, অপু (৪২) এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজন সেখানে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে সোনিয়া রহমান স্বর্ণার সঙ্গে বাদীর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাঁকে জিম্মি করা হয়।
বাদী এমন অভিযোগ অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়। পরে বাদীর স্ত্রীকে ফোন করে তাঁর স্বামী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন জানিয়ে টাকা দাবি করা হয়। তবে স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা আদায় করতে না পেরে বাদীর কাছ থেকে নগদ ২৮ হাজার টাকা, বিকাশের মাধ্যমে আরও ৩ হাজার টাকা এবং দুটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বাদীর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে—এমন মর্মে ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলটি নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান এবং বাদীকে ছেড়ে দেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর পূবাইল থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মাজুখান এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মামলার ২ নম্বর আসামি সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাঁর হেফাজত থেকে বাদীর লুণ্ঠিত পালসার মোটরসাইকেল, একটি স্মার্টফোন ও তিনটি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত আবুবকর সিদ্দিক মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে নারী অভিযুক্ত দুজনকে পাওয়া যায়নি। আমরা একজনকে গ্রেপ্তার করে তাঁর কাছ থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছি। ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা জানতে তাঁকে গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’